kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কুষ্টিয়ায় নতুন চক্র সক্রিয়

ডিসি-ইউএনওর ফোন নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কয়েক দিন ধরে প্রতারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ফোন পেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব ও পুলিশ চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হানের ব্যবহৃত সরকারি নম্বরটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যানের নম্বরে ফোন দিয়ে টিআর ও কাবিখার বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ নম্বরের কোনো সিম রিপ্লেস হয়নি। তবে ক্লোনিং করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোনো চক্র এ কাজ করছে। ফোন করে বলা হচ্ছে, ‘চেয়ারম্যান সাহেব, আমি ডিসি বলছি, আপনার নামে ৫০০ টন টিআর, কাবিখার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আপনি দ্রুত আমার নম্বরে বিকাশ করে কিছু টাকা পাঠান। ’

গত তিন দিনে জেলা প্রশাসকের সরকারি মোবাইল নম্বর থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আরেফিন, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানকে ফোন করে এসব কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা জেলা প্রশাসকের কাছে ফিরতি কল দিলে জেলা প্রশাসক জানান, এ ধরনের কোনো ফোন কাউকে দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা বলেন, ডিসির কাছ থেকে এ ধরনের ফোন পাওয়ার পর আমরা হতভম্ব হয়ে যাই। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসকের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি এ ধরনের ফোন দেননি বলে জানান।

এদিকে একইভাবে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুরুষ কণ্ঠ শুনে চেয়ারম্যানরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার নতুন জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর আমি এখানে যোগদান করেছি। স্থানীয় অনেকের সঙ্গেই এখনো চেনাজানা হয়ে ওঠেনি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র প্রতারণার চেষ্টা করছে। মন্ত্রিপরিষদসহ বিভাগীয় কমিশনারকে বিষয়টি জানিয়েছি। বিষয়টি র‌্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। যেসব নম্বরে বিকাশ করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো তাদের দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চক্রটিকে ধরা যাবে। ’

খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান বলেন, ‘তিন দিন ধরে হুবহু আমার ব্যবহৃত নম্বরটি ব্যবহার করে ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্নজনকে ফোন করে প্রতারণা করা হচ্ছে। কেউ এ ধরনের ফোন পেলে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি। ’

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি ছাব্বিরুল আলম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।


মন্তব্য