kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পঞ্চগড়ের দারুলউলুম মদীনাতুল ইসলাম মাদ্রাসা

বেতন না দিলে খাবার বন্ধ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বেতন না দিলে খাবার বন্ধ

পঞ্চগড় শহরের দারুলউলুম মদীনাতুল ইসলাম মাদ্রাসায় বেতন বকেয়া থাকলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া হয় না। শহরের রৌশনাবাগের মাদ্রাসাটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘খাবার জারি বন্ধের’ এ নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা আবাসিক শিক্ষার্থীদের বেলায় প্রযোজ্য।

বেতন আদায় করে মাদ্রাসা সচল রাখতে এমনটি করা হয় বলে দাবি মাদ্রাসা প্রধানের। এ বিষয়ে একজন অভিভাবক জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে। শহরের ধাক্কামারা এলাকার কামরুল ইসলামের ৯ বছর বয়সী ছেলে আহসান হাবিব ওই মাদ্রাসার নাজরা বিভাগে পড়াশোনা করে। সে মাদ্রাসা হোস্টেলেই থাকে। তার বেতন বকেয়া থাকায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত ওই শিশু শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়া হয়নি। পরে সে মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানায়। খবর পেরে আহসান হাবিবকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসে তার বাবা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার হিসাব বিভাগের দায়িত্বরত এবং হেফজ, নাজারা ও মক্তব বিভাগের প্রধান মাওলানা সাইফুর রহমান শাহীন খাবার না দেওয়ার বিষয়টিকে ‘বেতন বকেয়া থাকাই কারণ’ বলে উল্লেখ করেন।

নাজরা বিভাগের মোজাম্মেল হক মারুফ (৯) জানায়, ঈদের ছুটি শেষে সে মাদ্রাসায় আসে। কিন্তু মাসিক বেতন বকেয়া থাকায় তাকে একদিন রাতে ও পরের দিন সকালে খাবার দেওয়া হয়নি। সকালে সে মামুন নামের এক শিক্ষকের খাবার ভাগ করে খায়। শিক্ষক মামুনও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক শিক্ষার্থী জানায়, বেতন না দেওয়ায় একাধিকবার তার খাবার বন্ধ ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদ্রাসার কওমি, কোরআন ও কিন্ডারগার্টেন বিভাগে প্রায় ৪৫০ জন শিশুশিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তাদের মধ্যে আবাসিক বিভাগের শিক্ষকসহ প্রায় ২০০ জনকে সকাল, দুপুর ও রাতে ভাত খাওয়ানো হয়। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি এক হাজার ২০০ টাকা করে মাসিক বেতন দিতে হয়। তবে প্রতি মাসেই বেশ কিছু দরিদ্র শিক্ষার্থীর বেতন বকেয়া থাকে। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে মাঝেমধ্যে মাদ্রাসা ফান্ড থেকে ভর্তুকি দিতে হয়।

এ বিষয়ে হিসাব বিভাগের প্রধান মাওলানা সাইফুর রহমান শাহীন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনাতেই আমি কারো খাবার জারি ও বন্ধ করি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা অনিচ্ছা নেই। ’

মাদ্রাসার প্রধান (মুহতামীম) মাওলানা এজাজ আহমাদ বলেন, ‘বেতন বকেয়া থাকলে ছাত্রদের খাবার জারি বন্ধ থাকে। ’

তবে তারা একেবারেই না খেয়ে থাকে এমন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কারো না কারো খাবার ভাগ করে খায়।

বেতন বকেয়া থাকায় খাবার খেতে না দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক উল্লেখ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে অনেক দোকানে প্রচুর টাকা বাকি পড়েছে। তারা বাকিতে আর জিনিসপত্র সরবরাহ করতে চায় না। এ জন্য বকেয়া আদায়ে অভিভাবকদের নানাভাবে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও সাড়া না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে বাধ্য হয়ে সর্বশেষ পন্থা হিসেবে খাবার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিরও সাড়া আছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিষয়টি অস্বীকার করে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক প্রামাণিক বলেন, ‘বেতন বকেয়া থাকায় খাবার দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা বা পরামর্শ নেই। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’

জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, খাবার বন্ধ করার বিষয়ে একজন অভিভাবকের অভিযোগ পেয়ে তা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য