kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাগমারায় স্থগিত ইউপির নির্বাচন

ফের আ. লীগের মনোনয়ন পেলেন জেএমবি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহীর বাগমারায় স্থগিত হওয়া ১৬ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ৩১ অক্টোবর। আর এতে আবারও জেএমবির এক নেতাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাঁর নাম আলমগীর সরকার। গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর আগেও দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি, যাঁর বিরুদ্ধে জেএমবিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিতর্কিত ওই আওয়ামী নেতা আলমগীর সরকারের সঙ্গে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলে অংশ নিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ। একজন প্রার্থীর হয়ে ওসির এমন কর্মকাণ্ডে অন্য প্রার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে রাত ৯টার দিকে ওসি আবুল কালাম আজাদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন।

এর আগে রাজশাহীর পুলিশ সুপার বলেন, ‘পুলিশ নির্বাচনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করবে। তবে কেউ যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

জানা যায়, বিগত ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে জেএমবির মিডিয়া সেল ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে খোদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই। যেখানে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই সাংবাদিকদের মতবিনিময়সহ একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। ২০০৪ সালের ১৩ এপ্রিল আলমগীর সরকারের বাড়িতে বাংলা ভাইসহ জেএমবি নেতাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিডিও চিত্র রয়েছে। চিত্রে দেখা গেছে জেএমবি নেতাদের পাশে বসে আছেন আলমগীর সরকার।

তবে তত্কালীন পুলিশ সুপার মাসুদ রানার নির্দেশে তাঁর বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়িতে জেএমবি নেতাদের বৈঠক করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আলমগীর সরকার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাপে পড়ে আপ্যায়নের জন্য তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৭ মে চতুর্থ দফায় বাগমারা উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর দুই দিন আগে ৫ মে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন আব্দুস সালাম। আর বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন একসময়ের জেএমবি ও পরে জাতীয় পার্টির নেতা আলমগীর হোসেন। সালামের বিরুদ্ধে জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদ বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বাগমারা উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি ইস্যু করা হয়। দলের সভানেত্রীর স্বাক্ষরিত ১৬টি চিঠি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি গ্রহণ করেন। এ সময় আলমগীর উপস্থিত থাকায় সেখানে তাঁর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয় বলে জানান মাসুদ।

মাসুদ আরো বলেন, ‘১৬ ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আব্দুস সালামের পরিবর্তে আলমগীর সরকার, হামিরকুত্সা ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে ছাবিনুন নাহার ও যোগীপাড়া ইউনিয়নে সোহাগ হোসেনের পরিবর্তে মোস্তফা কামালকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে দলের প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পৌঁছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য জেলার কাছে কোনো তালিকা চাওয়া হয়নি। কেন্দ্র থেকে সরাসরি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আলমগীর সরকারের বাড়িতে ২০০৪ সালে জেএমবি নেতাদের বৈঠক হতো তা সবাই জানে। তার ভিডিও চিত্র রয়েছে। সে কারণে গতবার তাঁর নাম পাঠানো হয়নি। তবে এবার তিনি কিভাবে দলীয় মনোনয়ন পেলেন, তা আমার জানা নেই। ’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জানান, ২০০৪ সালে আলমগীর সরকার ও তাঁর বড় ভাই জাহাঙ্গীর সরকার জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে তালিকা তৈরি করা হতো। সে তালিকা অনুযায়ী জেএমবির সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মীসহ এলাকার লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও চাঁদা আদায় করত।

জাহেদুল আরো জানান, তাঁদের পরিবারের সবাই জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে দলে আনুষ্ঠানিক যোগদান না করলেও ২০১২ সাল থেকে আলমগীর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুর ছত্রচ্ছায়ায় এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। ওই সময় তাঁকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হলেও এক বছর পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আলমগীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থগিত হওয়া বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ৬ অক্টোবর। যাচাই-বাছাই ৭ অক্টোবর ও প্রত্যাহারের শেষদিন ১৪ অক্টোবর।

বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, একই অভিযোগের কারণে এর আগে নির্বাচন বন্ধ হয়েছে। এখন আবার সেই অভিযোগ উঠেছে আরেক প্রার্থীর বিপক্ষে। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য