kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাজীপুরে উন্নয়ন কমিটির কর্মসূচিতে লাঠিপেটা

সাংবাদিকসহ আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরে উন্নয়ন কমিটির কর্মসূচিতে লাঠিপেটা

গাজীপুরে গতকাল বিভিন্ন দাবিতে মহানগর উন্নয়ন কমিটি মানববন্ধন করতে গেলে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিপেটা করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট মেরামতসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন কমিটির ব্যানারে মানববন্ধনে বেপরোয়া লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

এ সময় পুলিশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া লোকজনের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নেয় এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন কমিটি দীর্ঘদিন ধরে শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত গাজীপুর মহানগরীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করার পাশাপাশি রাস্তা মেরামত এবং জয়দেবপুর লেভেলক্রসিংয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে একই দাবিতে ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সড়কে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তাতে ব্যানার-ফেস্টুুন নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেয়। একপর্যায়ে লোকজন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশের মূল গেট অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে সভা দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান।

কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনের আহ্বায়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সংগঠনের সদস্য সচিব গাজীপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভেকেট ওয়াজউদ্দিন মিয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জবেদ আলী জবে, আজিজুর রহমান শিরিশ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংগঠনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ডিবি পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠিপেটায় যমুনা টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন রিপন, ক্যামেরাপারসন ফখরুল ইসলাম ফাহিম, এনটিভির ক্যামেরাম্যান দেবেশ মল্লিক, দৈনিক খবর বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. আক্তার হোসেন, দৈনিক নবচেতনার গাজীপুর প্রতিনিধি মাসুদ রানাসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়। এর মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়। লাঠির আঘাতে যমুনা টিভি প্রতিনিধির ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন সেট ভেঙে যায়।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আমির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের অনুমতি ছাড়াই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে শহরের প্রধান সড়কে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজনকে সরাতে গেলে তারা ডিবি পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও নাগরিকরা নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। বৃহস্পতিবার শহরের রাজবাড়ী সড়কে করা মানববন্ধন ছিল সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ। এক মিনিটের জন্যও কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিপেটা করে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে আহত করেছে। ’ তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি সরকার ও আওয়ামী লীগকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, জেলা প্রশাসক এস এম আলম দুই ঘণ্টা ধরে নিজ অফিসে অবরুদ্ধ আছেন জানিয়ে তাঁর কাছে পুলিশি সহায়তা চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সাংবাদিকদের চিনতে না পারায় এ ঘটনা ঘটেছে।


মন্তব্য