kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সত্তরোর্ধ্ব মাকে পেটাল ছেলে

মঠবাড়িয়া হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সত্তরোর্ধ্ব বিধবা চানবড়ু বেগম। তিন দিন ধরে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে আছেন।

ব্যথায় মাঝেমধ্যে কাতরাচ্ছেন। চিকিৎসায় ব্যথা সেরে যাবে; কিন্তু তাঁর চিন্তা, যে ছেলে পিটিয়ে ঘর দখল করে নিয়েছে, সুস্থ হয়ে ওই ঘরে যাবেন কী করে?

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের হাসেম উকিল কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। মারা যাওয়ার আগে হাসেম তিন কাঠা জমি লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী চানবড়ুর নামে। বাবার মৃত্যুর পর বখাটে ছেলে রুহুল আমীন ওই জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার জন্য মাকে চাপ দিতে থাকে। মা শেষ অবলম্বনটুকু হারানোর ভয়ে জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানান। গত সোমবার এ নিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। ছেলে একপর্যায়ে মাকে কিলঘুষি মারতে থাকে। এরপর ছেলের বউ (হাসিনা বেগম), দুই নাতি (রুবেল, মেহেদী হাসান) ও নাতনি মিলে বৃদ্ধাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে বৃদ্ধা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

চানবড়ু জানান, এর আগে তাঁর জমি ছোট ছেলে রুহুল জোর করে লিখে নেওয়ার চেষ্টা করলে মেজ ছেলে মো. কাওসার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুহুল তার ভাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাজানো মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

বৃদ্ধার অভিযোগ, রুহুল মারধরের পর তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে। এমনকি তাঁর ঘর দখল করে নিয়েছে। এ অবস্থায় তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।


মন্তব্য