kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হারিয়ে যাবে কি মনপুরা?

ভোলা প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মেঘনা নদীবেষ্টিত ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। উপজেলা সদরের চারটি গ্রাম নিয়ে মনপুরা ইউনিয়ন।

এর মধ্যে দুটি গ্রাম গত দুই বছরে ভেঙে গেছে। বাকি গ্রামগুলো এখন ভাঙছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে যাবে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি।

গত সোমবার মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ ঘাটে মেঘনার তীরে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে তীব্র স্রোত। বড় বড় ঢেউ।

স্থানীয়রা জানায়, মনপুরার চারিদিক থেকে ভাঙন চলছে। প্রায় প্রতিদিন নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। অব্যাহত ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, হাস-মুরগি ও গরু-ছাগল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক মাসে নদীর তীরবর্তী প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ভেঙে গেছে। মেঘনার গর্ভে তলিয়ে গেছে রামনেওয়াজ জামে মসজিদ, পীর সাহেবের খানকাসহ শত শত একর ফসলি জমি, সহস্রাধিক বাড়িঘড়। সহস্রাধিক গৃহহারা মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এসব গৃহহারা অসহায় পরিবার।

পাশের রামনেওয়াজ ইউনিয়নের কলাতলীর চর এলাকার জেলে দিদার বলেন, ‘মেঘনার ভাঙনে গত এক মাসে প্রায় এক হাজার ঘর বিলীন হয়েছে। এতে করে সহস্রাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। গৃহহারা এসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। ’

মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মনপুরা ইউনিয়নটি মেঘনায় ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেঙেছে। ভাঙন এত বেশি যে, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স বিলীনের পথে। নদীভাঙনের হাত থেকে মনপুরাকে রক্ষায় আমরা মানববন্ধন করেছি। বিভিন্ন দপ্তরে বহু লেখালেখি করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সত্তর দশকের আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ উল্লাহ চৌধুরীর আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনপুরায় এসেছিলেন। এর প্রাকৃতিক রূপ দেখে তিনি আন্দিরপাড়া গ্রামে চিন্তানিবাস স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্থান বিলীন হয়ে গেছে। ’

মনপুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, ‘পানিসম্পদমন্ত্রী এখানে এসে মনপুরাকে রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে একটি প্রকল্প বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত মেঘনার ভাঙন থেকে মনপুরাকে রক্ষা করা যাবে। ’


মন্তব্য