kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সীতাকুণ্ড

মাদকাসক্ত স্বামীকে খুন করে সন্তান কোলে থানায়

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাদকাসক্ত স্বামীকে খুন করে সন্তান কোলে থানায়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদকাসক্ত স্বামীকে হত্যার পর শিশুসন্তান নিয়ে থানায় হাজির হন গৃহবধূ খতিজা বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জাহাবাদ গ্রামে এক নারী মাদকাসক্ত স্বামীকে হত্যার পরদিন গত বুধবার সন্তানকে কোলে নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন।

ওই নারীর নাম খতিজা বেগম (৩২)।

স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৪০)। তাঁদের দুই সন্তান শাহীন (১৩) ও সম্রাট (৩)। ফেনীর দাগনভুঁইয়া উপজেলার ভবানিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ছিলেন ট্রাক লরির চালক। স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সীতাকুণ্ডের ভাড়া বাসায়।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে মাদক সেবন করে জাহাঙ্গীর বাসায় ফিরে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। রাত ৩টা পর্যন্ত চলে এই নির্যাতন। একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ঘুমিয়ে পড়লে বুধবার ভোর ৫টার দিকে খতিজা মরিচ বাটার পাথর দিয়ে গলার মধ্যে আঘাত করে তাঁকে মেরে ফেলেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ তোশক দিয়ে পেঁচিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। ঘরে তালা লাগিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সারা দিন ঘোরাঘুরি করে রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে পুলিশকে হত্যার বিষয়টি জানান। এরপর তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে একমাত্র আসামি করে নিহতের চাচাতো ভাই মোসাদ্দেক আলী থানায় হত্যা মামলা করেন।

খতিজা বলেন, ‘স্বামী সম্পর্কে আমার খালাতো ভাই ছিল। ২০০০ সালে বিয়ে হয়। কয়েক বছর পর থেকে সে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে প্রায়শ আমাকে পাশবিক নির্যাতন করত। অতিষ্ঠ হয়ে, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হত্যার পথ বেছে নিয়েছি। ’

প্রতিবেশী রহিম ভূঁইয়া জানান, জাহাঙ্গীর সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকার আবুল খায়ের স্টিল মিলের লরিচালক। সাত মাস আগে মিলের পাশের জাহানাবাদে নাছির কন্ট্রাক্টরের ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘চালক হওয়ার কারণে প্রায় সময় বেশি রাত করে বাড়ি ফিরতেন জাহাঙ্গীর। নেশা করতেন। ফিরেই স্ত্রীর ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাতেন। অনেক সময় অসহায় স্ত্রী পাশের মানুষজনের ঘরে আশ্রয় নিতেন। ’

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ইফতেখার হাসান বলেন, ‘হত্যা ঘটেছে মঙ্গলবার মধ্যরাতে। বুধবার রাতে থানায় এসে ঘটনার আদ্যোপান্ত পুলিশকে জানালে আমরা জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। মামলার পর তিন বছরের শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বড় সন্তানকে তার নানার পরিবারের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য