kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভালুকার তাহমিনা হাসপাতাল

ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ময়মনসিংহের ভালুকা সদরের তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অস্ত্রোপচারে আছমা আক্তার (২১) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন আছমার বাবা। মামলায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোশারফ হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুজনকে আসামি করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আছমা আক্তার উপজেলার ধীতপুর টুংরাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মৃধার মেয়ে ও সাতেঙ্গা গ্রামের আলী আকবর মানিকের স্ত্রী।

ভালুকা মডেল থানা ও আছমার পরিবার সূত্র জানায়, আছমা আক্তার প্রসূতি অবস্থায় তাঁর বাবার বাড়ি অবস্থান করছিলেন। গত মঙ্গলবার সকালে তাঁর প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাঁকে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক মোশারফ হোসেন প্রসূতিকে পরীক্ষা করে তাঁর (আছমা) বাবাকে জানান, দ্রুত সিজার করা দরকার এবং এ জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে। পরে ১৮ হাজার টাকা রফায় আছমাকে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। ১৫-২০ মিনিট পর একটি মেয়েশিশু তাঁর পরিবারের সদস্যের হাতে দিয়ে বলা হয়, রোগী ভালো আছেন। পরে রোগীকে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে রাখা হয়। দীর্ঘক্ষণেও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া রোগীকে আবার অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয় এবং চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। তিন ঘণ্টা পর রোগীকে সেখান থেকে বের করে আবার পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে রাখা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে রোগীর পরিবারকে বলা হয়, রোগীর অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসক তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করেছেন। পরে দ্রুত মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই মারা যান আছমা।

আছমার বাবা আবু তাহের বলেন, ‘মেয়েকে মমেক হাসপাতালে রেফারের পর আর ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায়নি। আমি এর বিচার চাই। ’

আছমার সঙ্গে আসা ধাত্রী রোকেয়া খাতুন পুলিশকে জানান, বাড়ি থেকে আসার পথেই প্রসূতির প্রসবপথে বাচ্চার মাথা বের হয়ে আসছিল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে হয়তো নরমাল ডেলিভারি হতো।

তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোতাহার হোসেন রিপন সাংবাদিকদের জানান, রোগীর অপারেশনের পর তাঁর দেহে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এর পরও রক্ত বন্ধ না হওয়ায় তাঁকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হযরত আলী জানান, মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য