kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘সম্পত্তি নিয়ে’ ছেলের সঙ্গে বিরোধ

এবার তিনি থানা ঘেরাও করলেন

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফরিদগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর পাটোয়ারীর ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবার তিনি থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করলেন। গতকাল বুধবার তিনি উপজেলার বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করেন।

এর আগে ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাঁর ছেলেকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়।

বাবা-ছেলেসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছেলে মমিন উল্লাহর জন্মের কিছুদিন পর তাঁর মায়ের মৃত্যুর হলে মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই থেকে সংসারে বিরোধ চলছে, যা মূলত সম্পত্তি নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জের বালিচাটিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর পাটোয়ারী গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ছেলে মমিন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে থানায় আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মমিন হোসেনকে ধরে আনা হলেও পরে আর কখনো বাবার সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। মমিনকে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদউল্লাহ তফাদার বিষয়টি জানতে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন ওসি তাঁকে জানান, বাবা-ছেলের বিষয়টি সামাজিকভাবেই মীমাংসা হওয়া উত্তম।

এ অবস্থায় গতকাল বুধবার ওসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করার জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদের নাম ব্যবহার করে একটি ব্যানার তৈরি করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত জেলা কমান্ডার সেখানে যাননি। তাঁর পক্ষে ডেপুটি কমান্ডার মহসিন পাঠান ফরিদগঞ্জে যান। পরে তাঁদের বিরোধ মেটাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বৈঠক বসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। পরে আবার পুলিশের চাঁদপুর সদর সার্কেলের এএসপি নজরুল ইসলাম ফরিদগঞ্জে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ওই বৈঠকের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, সমঝোতার সব চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হঠাৎই সব এলোমেলো হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘কমান্ডার সাহেব বিভিন্ন সময় অন্যায় আবদার নিয়ে থানায় আসেন। আমি তাঁকে দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান বজায় রেখে চলার অনুরোধ করি। তাতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন। ’

মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর পাটোয়ারী বলেন, ‘আমার ছেলে বিপথে চলে গেছে। ছেলের অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় সে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সহযোদ্ধাদের নিয়ে বিচার দাবি করছি। ’


মন্তব্য