kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশুলিয়া

কারখানা স্থানান্তরিত শ্রমিকরা জানে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চাকরিতে পুনর্বহাল ও বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে একটি কারখানার ছাঁটাই শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি করে।

অন্যদিকে শিল্প পুলিশ বলছে, ওই কারখানা স্থানান্তর করা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বলিভদ্র বাজারের আনজিরা অ্যাপারেলস লিমিটেড, ইউনিট-২-এর শ্রমিকরা অভিযোগ করে, কয়েক মাস ধরে মালিকপক্ষ বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করে আসছে। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে মারধর ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। গত কোরবানির ঈদের ছুটির আগে শ্রমিকরা মালিকপক্ষের কাছে চার দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো, কাজ না থাকলে মূল মজুরি ও বার্ষিক ছুটির টাকা দিতে হবে; বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নির্যাতন বন্ধ ও চাকরির নিশ্চয়তা। এই দাবি তুলে ধরলে মালিকপক্ষ ঈদের ছুটির পরে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। ঈদের ছুটি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় এবং ১ অক্টোবর শ্রমিকদের চাকরিতে যোগদান করতে বলে। ছুটি শেষে ১ অক্টোবর শ্রমিকরা কারখানায় গেলে গেট থেকে শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কর্মচারীদের উপস্থিতিতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা উপস্থিত শ্রমিকদের ১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীদের করুণ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।

কারখানার শ্রমিক রিক্তা বেগম বলেন, কয়েক মাস ধরে শ্রমিক ছাঁটাই করে মালিকপক্ষ যন্ত্র সরিয়ে নিচ্ছে। নিটিং, লিংকিং সেকশনসহ সব মিলিয়ে কারখানাটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কর্মরত ছিল। কিন্তু নানা উছিলায় শ্রমিক ছাঁটাই করতে করতে এখন শ্রমিক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০-এ। ১ অক্টোবর কারখানা থেকে যন্ত্র সরিয়ে নিতে দেখেছে শ্রমিকরা।

শ্রমিক বিলকিস বেগম, জাহাঙ্গীর ও দেলোয়ার অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষ মেন্যুয়াল (হস্তচালিত) সরিয়ে অটোমেশিন (স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র) আনার কারণে বাড়তি শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। শ্রমিকরা এ বিষয়ে মালিক সংগঠন (বিজিএমইএ), শিল্প পুলিশ, শ্রম মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে কারখানার কোনো কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি।

শিল্প পুলিশ-১ সাভার-আশুলিয়া জোনের পরিচালক এসপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মালিকপক্ষ কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করেনি। তবে কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। পুরনো কারখানার বেশির ভাগ শ্রমিক অটোমেশিন বসানো নতুন ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে। ৮০ থেকে ১০০ জন শ্রমিক নতুন কারখানায় না গিয়ে আন্দোলন করছে। মালিকপক্ষ কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী যেন সব সুবিধা প্রদান করে সে বিষয়টি দেখা হবে। ’

গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশ বলেন, ‘মালিকপক্ষ নোটিশ না দিয়ে কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। তা ছাড়া নতুন কারখানায় অটোমেশিন স্থাপন করায় আগের তুলনায় শ্রমিক কম প্রয়োজন পড়বে। সে কারণে বেশ কিছু শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। কিন্তু তাদের শ্রম আইন অনুযায়ী সুবিধাদি দেওয়া হয়নি। ’


মন্তব্য