kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজার সৈকতে সেই কলেজ ছাত্রের লাশ

শেরপুর ও পঞ্চগড়ে নদীতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার/শেরপুর ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গত শনিবার সকালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ কলেজ ছাত্র রিফাত হোসেন নিমরোজের লাশ রবিবার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। রিফাত ঢাকার সাভারের জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নিটা) শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

রিফাতের বাবা নওগাঁ জেলা সদরের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হায়দার আলী কক্সবাজারে এসে ছেলের লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান। গতকাল সোমবার বাদ জোহর সাভারে রিফাতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ সদরের ফতেহপুর গ্রামের বাড়িতে এখন শুধুই শোকের মাতম। রিফাতের মা নাসিমা বেগম মেমী ছেলে হারানোর শোকে কাতর। তিনি বারবার শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন। খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ছেলে কক্সবাজার পৌঁছে তাঁকে জানিয়েছিলেন, ‘মা, আমি বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার পৌঁছে গেছি। তুমি কোনো চিন্তা কোরো না। ’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রিফাত হোসেন নিমরোজের লাশ নিয়ে বাবা হায়দার আলী গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পারিবারিক করবস্থানে তাঁর লাশ দাফন করার কথা। প্রসঙ্গত, নিটার শেষ বর্ষের ৪৩ জন শিক্ষার্থী গত শনিবার কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে আসেন। সেখানে সৈকতের সিইন পয়েন্টের বালুচরে সৃষ্ট গুপ্ত খালে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যান রিফাত হাসান। আর মাত্র তিন মাস পরই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁর পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে শেরপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় মৃগী নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো শহরের উত্তর কালীগঞ্জ এলাকার হাফিজুর রহমান মিসকিনের ছেলে এম এ পাবলিক স্কুলের নার্সারির ছাত্র আরাফাত ইসলাম (৬) ও তার ফুফাতো বোন সোহানা বেগম (৩)। রবিবার বিকেলে মৃগী নদীর ধারে খেলা করার সময় ওই দুই শিশু পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা নদী থেকে সোহানার লাশ উদ্ধার করলেও আরাফাতের খোঁজ পায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও ময়মনসিংহের ডুবুরিরা রাতে নদী থেকে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, গার্মেন্টকর্মী বিউটি বেগম মেয়ে সোহানাকে নিয়ে রবিবার দুপুরে গাজীপুরের কর্মস্থল থেকে শহরের উত্তর গৌরীপুর এলাকার বাবা জহুর আলী মিস্ত্রির বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বিকেলে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন সোহানা ও আরাফাত বাড়ির পাশের মৃগী নদীর ধারে খেলতে গিয়ে নদীতে ডুবে যায়।

এদিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সোমবার দুপুরে গোবরা নদীতে ডুবে সোহেল (১০) ও রতন (৯) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, সোহেল তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে এবং রতন একই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। সোহেল আজিজ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ও রতন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে সোহেল ও রতন নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায়।


মন্তব্য