kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চুয়াডাঙ্গা বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র

শ্রমিক সংঘর্ষ ককটেল গুলি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চুয়াডাঙ্গা বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে সোমবার সকালে দুই দল শ্রমিকের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক জানান, সকালে দুই দল শ্রমিক নিজেদের মধ্যে গোলোযোগে জড়িয়ে পড়ে। তারা একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে সাতটি ককটেল ছুড়ে মারে। ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। এ অবস্থায় পুলিশ সাত রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় বোরো ধান বীজ বিতরণের কাজ চলছে চুয়াডাঙ্গার বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে। এ কাজের জন্য প্রায় ৩০০ শ্রমিক দরকার। শ্রমিকও আছে পর্যাপ্ত। কিন্তু শ্রমিকরা দুই ভাগে বিভক্ত। শ্রমিকরা সবাই যুবলীগের দুই গ্রুপের অনুসারী। সাবেক যুবলীগ আহ্বায়ক ও বর্তমান পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী পক্ষের অনুসারী একদল। অন্য পক্ষ যুবলীগ সদস্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের অনুসারী। দুই পক্ষেরই দাবি তাদের নিজ গ্রুপের শ্রমিক নিয়ে বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের কাজ করাতে হবে। দুই পক্ষের এই দাবিকে ঘিরেই বাধে গোলযোগ। সোমবার সকালে গোলযোগের পর পরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ সব শ্রমিকদের প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের বাইরে চলে যেতে বলে।

প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের এক পক্ষের শ্রমিক নেতা লোকমান হোসেন যুবলীগ নেতা নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার পক্ষের অনুসারী। অন্যদিকে শ্রমিক আব্দুল মোমিন ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর অনুসারী। প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের কাজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, বিষয়টি শ্রমিকদের। ওখানে এক পক্ষের শ্রমিকদের কাজ করতে দেওয়া হয় না। এ জন্যই সব সময় প্রতিবাদ হয়ে থাকে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দুপুরে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এলাকায় কয়েকজন শ্রমিককে দেখা গেলেও তারা কোনো ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।

চুয়াডাঙ্গা বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুল মালেক জানান, লোকমান হোসেনের নেতৃত্বাধীন শ্রমিকদের সঙ্গে আব্দুল মোমিনের নেতৃত্বাধীন শ্রমিকদের গোলযোগ হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

 


মন্তব্য