kalerkantho


পঞ্চগড়ের নুরিনা হত্যাজট খুলল এক বছর পর

গণধর্ষণ শেষে খুন মুখ বিকৃত এসিডে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গণধর্ষণ শেষে খুন মুখ বিকৃত এসিডে

পঞ্চগড়ে ক্লিনিকের আয়া নুরিনা বেগম (৩০) হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর রহস্য উম্মোচন হয়েছে। তাঁকে গণধর্ষণ শেষে চাকু দিয়ে আঘাত ও মৃত্যু নিশ্চিত করতে পানিতে চুবিয়ে রেখে পরে শরীরে এসিড ঢেলে চেহারা বিকৃত করা হয়। তিন আত্মীয়সহ চারজন এমন নৃশংসতায় সম্পৃক্ত ছিল বলে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঢাঙ্গীপুকুরি গ্রামের বাসিন্দা নুরিনা শহরের দেশ ক্লিনিকে আয়ার কাজ করতেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর বোর্ড বাজারে কবিরাজের কাছে ওষুধ আনতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। ১৫ অক্টোবর ভিতরগড় শালমারা বাগান থেকে পুলিশ তাঁর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা গিয়ে তাঁর লাশ শনাক্ত করে। ওই দিন তাঁর ভাই মজিরউদ্দিন (৪০) সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি নুরিনার বড় বোনের স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রবিউল হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও কাবুল নামের একজনের জড়িত থাকার কথা জানায়। পরে পুলিশ ঢাকার লালবাগের আমলিগোল খেলার মাঠ থেকে নুরিনার চাচাতো ভাই শহীদুল ইসলাম কাবুলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে।

কাবুলকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। গত শনিবার রাতে কাবুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কাবুল জানায়, নুরিনাকে সে, রবিউল ও ধর্মভাই নাজমুল বিভিন্ন সময়ে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু কারো প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তিনি অন্যত্র বিয়ে করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার পরিকল্পনা করে। এ জন্য গত বছরের ৫ অক্টোবর সে ও নাজমুল চুমানুপাড়ার কবিরাজের বাড়িতে নুরিনাকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ভ্যানযোগে সীমান্ত এলাকায় চা বাগান দেখতে যায়। ফেরার পথে রবিউল ও হাঁড়িভাসার আরেক কাবুল সাইকেলে তাদের পিছু নেয়। সবাই ভিতরগড় শালমারা বাগানে যায়। পরে চারজন মেয়েটিকে যৌন নির্যাতন করে। পরে তাকে বাগানের আরো ভেতরে নিয়ে গিয়ে সবাই মিলে হত্যা করে। তবে, হাঁড়িভাসার কাবুলই নুরিনার পেট ও গোপনাঙ্গে চাকু দিয়ে আঘাত করে।

আসামি জানায়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরিকাঘাতের পর নিচু জমির পানিতে নুরিনাকে প্রায় আধাঘণ্টা চুবিয়ে রাখা হয়। এরপর ডাঙ্গায় এনে তাঁর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রবিউলের আনা দুই বোতল এসিড ঢেলে দেওয়া হয়। যাতে তাঁকে কেউ চিনতে না পারে।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দি দেওয়ার পর কাবুলকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত হাঁড়িভাসার কাবুল পলাতক রয়েছে। অন্য দুই আসামি রবিউল ও নাজমুল জামিনে রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, ‘পলাতক আসামি কাবুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

মামলার বাদী নুরিনার ভাই মজিরউদ্দিন বলেন, ‘নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা শুনে আমরা শিউরে উঠেছি। আত্মীয়রাই এ ঘটনা ঘটাতে পারে এমন কথা আমরা ভাবিনি। ’

 


মন্তব্য