kalerkantho

ক্ষমতাধর হেলাল

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্ষমতাধর হেলাল

হেলাল উদ্দিন

হেলাল উদ্দিন। বয়স ২২।

পড়েন মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া মাদ্রাসার ফাজিল (স্নাতক) প্রথম বর্ষে। মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও তিনি। অবাক করা ব্যাপার হলো, ছাত্র বয়সেই মেহেরপুরের মুজিবনগরের মহাজনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বনে গেছেন। ওই ছাত্রলীগ নেতা ও মাদ্রাসা ছাত্রকে একটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত করায় নানা প্রশ্ন ডালপালা মেলেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে মহাজনপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৫৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির সভাপতি একজন ছাত্র হলেও কিছু করার নেই। তার নির্দেশনা মেনেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাতে হয়।

কমিটির নির্বাচিত সদস্যরাই তাকে গত ২৯ মে সভাপতি বানিয়েছেন। ’ এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচিত পাঁচ সদস্যের মধ্য থেকে গণ্যমান্য, শিক্ষানুরাগী, সমাজ সেবককে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার (উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) উপস্থিতিতে সভাপতি মনোনয়ন করতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় নিজ গ্রামে দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন হেলাল। মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলুর ঘনিষ্ঠ তিনি। পাঁচ সদস্যের মধ্যে তাঁর চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তথ্য গোপন করে সভাপতি হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনি।

মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, হেলাল ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। এ হিসাবে তিনি প্রথম বর্ষের পুরনো ছাত্র। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা ঘেঁটে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত ক্লাস করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিটি গঠনের নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও ছাত্র রাজনীতি করা ব্যক্তি বা কোনো ছাত্র সভাপতি হতে পারেন না। এ ধরনের পদে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি দায়িত্ব না পেলে সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে কিছু আশা করা যাবে না। ’

মুজিবনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, ‘হেলাল উদ্দিন ছাত্র জানতাম না। তাকে সভাপতি নির্বাচন করার সময় ওই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। আমার উপস্থিতিতে তাকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন নির্বাচিত সদস্যরা। তবে যখন জেনেছি তখন আর কিছুই করার নেই। ’

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে সবাই আমাকে জানে। তাই সদস্যরা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। ’ তথ্য গোপন করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সভাপতি নির্বাচনের সময় ছাত্র কি না এ বিষয়ে কোনো কথাই হয়নি। ’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘ছাত্র অবস্থায় এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া বা নেওয়া কোনোটাই ঠিক নয়। তবে কমিটির বিধিবিধান স্পষ্ট না থাকায় ফাঁকফোকর দিয়ে একজন ছাত্র দায়িত্ব পেয়েছে। ’

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আহসান হাবিব বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিমল সিংহ বলেন, ‘একজন ছাত্র কিভাবে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়? অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য