kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চালক আনাড়ি, ধলেশ্বরীর ৬০ ফুট গভীরে গাড়ি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চালক আনাড়ি, ধলেশ্বরীর ৬০ ফুট গভীরে গাড়ি

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর ব্রিজের রেলিং ভেঙে ধলেশ্বরীতে ডুবে যাওয়া প্রাইভেটকারটি গতকাল বিকেলে উদ্ধার করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর রেলিং ভেঙে প্রাইভেট কার ধলেশ্বরী নদীতে ডুবে গেছে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনার পর গতকাল শনিবার বিকেলে নদীর ৬০ ফুট গভীর থেকে গাড়িটি উদ্ধার হয়েছে।

তবে চালকের আসনে থাকা মালিকের ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ জালাল উদ্দিন ভূইয়া রুমী (২৫) নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়ার বিসমিল্লাহ স্যানাটারির মালিক আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি সম্প্রতি গাড়ি চালনা শিখেছেন। তাঁর লাইসেন্স নেই।

ওই গাড়ির চালক রুবেল জানান, কারটি গত ঈদের কয়েক দিন আগে কেনা হয়েছে। তাঁরা সেতুতে বেড়াতে এসেছিলেন। শুক্রবার মধ্যরাতে সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে এসে দুজনে চা পান করেন। তাঁকে রেখে রুমী গাড়িটি একা চালাতে বের হন। সেতুর ওপর ইউটার্ন করে ফিরে আসার কথা বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেতুর মাঝামাঝি ইউটার্ন করার সময় পশ্চিম প্রান্তের রেলিং ভেঙে গাড়িটি পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে আসেন। স্রোত থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। শনিবার সকালে ৬০ ফুট পানির নিচে কারটি শনাক্ত করে রশি বাঁধা হয়। তবে এটি টেনে ওঠানোর জন্য রেকারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না পেয়ে রশি দিয়ে একটি জাহাজে করে কারটি পানিতে ভাসিয়ে তীরে নেওয়া হয়। পরে উপস্থিত শত শত লোক টেনে এটিকে তীরে তোলে।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নিখোঁজের সন্ধানে ধলেশ্বরী নদী চষে বেড়াচ্ছেন। সাদা রঙের নতুন কারটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। গাড়ির ভেতরে রুমীর মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। গাড়ির দরজা খোলা ছিল। ডুবুরিরা এ থেকে ধারণা করছেন, রুমী গাড়ি থেকে বের হয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। সেতু এলাকায় তাঁর স্বজনরা আহাজারি করছে।

সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রাত ২টার দিকে নদীর প্রায় ৬০ ফুট পানির নিচের তলদেশ থেকে নিখোঁজ কারটির বাম্পার পাওয়া যায়। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকার কারণে রাতে উদ্ধারকাজ স্থগিত হয়। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বিকেল ৩টায় কার উদ্ধার করা হয়। ’

মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘গাড়িটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ’

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী বলেন, ‘গাড়ি উদ্ধারের পর এখন নিখোঁজকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ’


মন্তব্য