kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেঘনায় নৌকার গতির খেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মেঘনায় নৌকার গতির খেলা

নরসিংদীর মেঘনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতিযোগিতায় খোল-করতালের ছন্দে নদীর জলরাশি কেটে এগিয়ে যাচ্ছে নৌকা। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেঘনার দুই পাড়ে নানা বয়সী হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়। খোল-করতালের ছন্দে নদীর জলরাশি কেটে দ্রুত ছুটেছে ‘একঝাঁক’ নৌকা।

মাঝিদের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছার অদম্য প্রচেষ্টা। উচ্ছ্বাস-উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে মাঝি, দর্শনার্থী—সবার মধ্যে। এরপর জয়-পরাজয়।

এমনই টান টান উত্তেজনায় নরসিংদী শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতিযোগিতা (বাইচ) হয়েছে গতকাল শনিবার দুপুরে। শেরে বাংলা ক্লাবের উদ্যোগে ওয়াশ আউটের পৃষ্ঠপোষকতায় নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ৩৬ জন মাঝি নৌকাসহ তাঁদের দল নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

সকাল থেকেই নরসিংদী শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে শহররক্ষা বাঁধ ও নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় হাজারো শিশু-নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। প্রতিযোগিতা উপলক্ষে বাইচের নৌকাগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। মাল্লারাও সাজেন বিচিত্র সাজে। খোল, করতাল, কাশি, মন্দিরা, ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে প্রতিযোগিতার নৌকায় ছিল গায়ক দল।

নরসিংদীর রায়পুরা থেকে আসা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘লোকমুখে নরসিংদীর নৌকাবাইচের কথা অনেক শুনেছি। এবার পরিবারের লোকজন নিয়ে দেখতে আসি। ’

শহরের কুমিল্লা কলোনি থেকে আসা গৃহবধূ নুসরাত জাহান আঁখি বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর অপেক্ষায় থাকি এই নৌকাবাইচের জন্য। ’ নৌকাগুলো তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। গ্রুপ পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে হয় চূড়ান্ত রাউন্ডের প্রতিযোগিতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ওসমান উল্লাহর দল প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে ৩০ হাজার টাকা প্রাইজমানি জিতে নেয়। নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুরের হাজি ফারুক মিয়ার দল দ্বিতীয় ও কিশোরগঞ্জের নিকলীর শমসের আলীর দল তৃতীয় হয়ে ২০ হাজার টাকার প্রাইজমানি জিতে নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলকে দেওয়া হয়েছে সান্ত্বনা পুরস্কার।

বিজয়ী মাঝি ওসমান উল্লাহ বলেন, ‘পুরস্কার জেতা নয়, সবাইকে বিনোদন দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। তবে প্রথম পুরস্কার পাওয়ায় অনেক ভালো লাগছে। ’

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হীরু। শেরে বাংলা ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক কায়কোবাদ হোসেনের সভাপতিত্বে নৌকাবাইচে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল, প্যানেল মেয়র রিপন সরকার প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরু বক্তব্যে বলেন, ‘নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। এ খেলা কতটা জনপ্রিয় তা প্রতিযোগিতায় আসা হাজারো মানুষ দেখলেই বোঝা যায়। আমার বিশ্বাস, নৌকাবাইচের এই নির্মল বিনোদন জঙ্গি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে। ’


মন্তব্য