kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কালের কণ্ঠে সংবাদ পড়ে বাবা পেলেন মেয়ের লাশের খোঁজ

প্রেমিকের হাতেই জেসমিন খুন!

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রেমিকের হাতেই জেসমিন খুন!

জেসমিন আক্তার

রাঙামাটি শহরের পর্যটন এলাকা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হয়েছিল এক পর্যটক নারীর লাশ। নাম-পরিচয়হীন ওই লাশ পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে এক সপ্তাহ আগে।

অবশেষে সেই নারীর নাম পরিচয় জানা গেছে। মেয়েটির নাম জেসমিন আক্তার (২১)। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সবাক ইউনিয়নে। প্রেমিকের হাতে জেসমিন খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার বাসিন্দা এহছানুল নেওয়াজ রাহেদের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের প্রেম ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা তাঁদের সম্পর্কের কারণে রোজার ঈদের পর বাড়ি থেকে প্রেমিক রাহেদের হাত ধরে পালিয়ে যান জেসমিন (২১)। পরে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর তাঁদের দুজনকে রাঙামাটির একটি হোটেল থেকে পুলিশ আটক করে। পরে জামিন নিয়ে দুজন যাঁর যাঁর বাড়ি চলে যান।

জেসমিনের বাবা নুর মোহাম্মদ জানান, গত ১৬ আগস্ট রাহেদ, মান্নান, সাহিদসহ পাঁচজনের একটি দল জেসমিনের মা রাহানা বেগমকে মারধর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। সেই থেকে মেয়ের কোনো খোঁজ পায়নি জেসমিনের পরিবার। গত ২২ সেপ্টেম্বরের ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় খবর পড়ে রাঙামাটি ছুটে যান তিনি। পত্রিকায় দেরিতে খবরটি পড়ায় ঠিক সময়ে রাঙামাটি যেতে পারেননি তিনি। তত দিনে মেয়ের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয়ে যায়। তবুও জেসমিনের কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন আলামত দেখে শনাক্ত করেন এটিই তাঁর মেয়ের মরদেহ। যাঁর গলায় ছুরির  আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জেসমিনের বাবা নুর মোহাম্মদ আরো অভিযোগ করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে সন্ত্রাসীরা এসে তাঁর বাসায় আগুনও ধরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়ে হারিয়েছি, আমার বাসাতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি শুধু আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। ’

এদিকে নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে এহছানুল নেওয়াজ রাহেদ, আব্দুল মান্নান, মো. সাহিদকে অভিযুক্ত করে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছেন। এর আগে কোতোয়ালি থানার পুলিশের এসআই সৌরজিৎ বড়ুয়া বাদী হয়ে এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা করেন। নতুন সাধারণ ডায়েরির তথ্যগুলোও ওই মামলায় যোগ হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার লিমন বোস বলেন, ‘আমরা নুর মোহাম্মদের দায়ের করা অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশের এসআই সৌরজিৎ বড়ুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে পর্যটন এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কোনো পরিচয় না পেয়ে পুলিশ পৌরসভার সহযোগিতায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে।


মন্তব্য