kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজীবপুর থানা

ধর্ষণচেষ্টার মামলা নিচ্ছেন না ওসি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থানার ওসি ধর্ষণচেষ্টার মামলা নিচ্ছেন না। অভিযোগের পর মামলা রেকর্ড করা হবে, আজ না কাল, এভাবে ১৬ দিন পার করেন।

এখন বখাটেদের সঙ্গে মীমাংসার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজীবপুর থানার ওসি পৃথীশ কুমার সরকার বলেন, ‘ঘটনার পর পরই অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু অভিযুক্তরা তো এলাকায় নেই। আমার মনে হয়েছে, ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। যা হয়েছে দুজনের ইচ্ছেতে। ধর্ষণ হয়নি আর নারী নির্যাতনেরও প্রমাণ নেই। এ কারণে মামলা নেওয়া হয়নি। ’ আসামিদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং মীমাংসার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তাদের মীমাংসার কথা বলিনি। তবে আদালতে মামলার কথা বলেছি। ’

মেয়ের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি থানায় বিচার চেয়ে অভিযোগ দিলাম। প্রথমে পুলিশ খুব দাপাদাপি করল। মনে অইল বিচার পামু। কিন্তু থানার ওসি এহন কয়, মেয়ে নিয়া বাড়াবাড়ি না কইরা কিছু টাকা নিয়া মিলমিশ হয়ে যাও। কোনো মামলা নেওয়া হবে না। আসামিরা ওসিকে অনেক টাকা দিছে। এদিকে আসামির ভয়ে মেয়ে আমার কলেজে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। নাওয়া-খাওয়াও করে না সময়মতো। মেয়েকে নিয়া খুব বিপদে আছি। ’

অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ধুলাউড়ি গ্রামের হযরত আলীর ছেলে নাছির উদ্দিন (২২)। এ সময় নাছিরের সঙ্গে আরিফ হোসেনও (২৪) ছিল। তারা দুজন অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মেয়েটিকে নির্যাতনের চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। তারা মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ঘটনার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। পুলিশ তদন্তে গিয়ে গ্রামাবাসীর সাক্ষ্য নেয়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শুরু করে থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, ‘ধর্ষণচেষ্টা হয়েছে, এটা সত্যি। কিন্তু পুলিশ কী কারণে মামলা নিচ্ছে না, তা খুবই রহস্যজনক। ’


মন্তব্য