kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিদ্যুৎ সংযোগের নামে বাণিজ্য রামগঞ্জে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতা ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা সিন্ডিকেট করে বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অন্তত পনের লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে প্রতারিত লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ইছাপুর, দক্ষিণ শ্রীরামপুর, নারায়ণপুর, উত্তর শ্রীরামপুর, নয়নপুর, নুনিয়াপাড়া, শিবপুর ও সান্দানপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি লায়ন এম এ আউয়ালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ওই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহ করার। কিন্তু ছয় মাস ধরে মতলববাজদের সিন্ডিকেট ওই গ্রামগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে কমপক্ষে ৪০০ গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত পনের লাখ টাকা তুলেছে।

বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের অভিযোগ, ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ সবুজ, মো. লিটন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ খান, লোকমান হোসেন লোকা, যুবলীগ নেতা নূর হোসেন পাল, এমরান হোসেন, মিলন পাটোয়ারী, সাইফুল ও রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পিওসি আনোয়ার হোসেন মিঝি বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহের নামে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন থেকে সাত হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছে, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌকিদার বাড়ি থেকে সাতটি, বশির চেরাং বাড়ি ছয়টি, রায়ছাড়া বাড়ি তিনটি, লোচার বাড়ি দুইটি, ছাড়াবাড়ি আটটি, মনু পাটোয়ারী বাড়ি থেকে চারটি সংযোগের নামে ৩০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ৩৮টি সংযোগের জন্য লোকজনের কাছ থেকে এক লাখ ৯ হাজার টাকা নেন। মুনসুর আলী বেপারি বাড়ির ১৬টি পরিবার থেকে ৮৮ হাজার, দৌলতবাড়ির ১২টি পরিবার থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

দক্ষিণ শ্রীরামপুর এলাকার ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানের নির্দেশে টাকা তুলেছি। কিছু খরচাপাতি সব জায়গায়ই লাগে। বিদ্যুৎ অফিসেও কিছু দিতে হয়েছে। নিজের জন্য কিছু নেইনি। ’

নয়নপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও ইছাপুরে তা হয়নি। এ জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা করে নিয়েছি। এই টাকা একা ভোগ করিনি। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকেও খরচ বাবদ দিতে হয়েছে। ’

রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পিওসি আনোয়ার হোসেন মিঝি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জিএম অফিসের লোকজন জড়িত থাকতে পারে।

ইছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ উল্লা বলেন, ‘ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায়ই বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ আনার জন্য এমপি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। টাকা তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। ’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন এম এ আউয়াল বলেন, জড়িতদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে ওই গ্রামগুলো সার্ভে হয়েছে, চলতি অর্থবছরেই বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।


মন্তব্য