kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি

রাজপথে রাঙামাটিবাসী

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পার্বত্য রাঙামাটির মানুষকে একদিন ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে, সেই প্রকল্পের বিদ্যুতে দেশ আলোকিত হলেও রাঙামাটির মানুষকে আজ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে মাঠে নামতে হয়েছে, এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?’

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের সমাবেশে এমন কথাই বলেছেন বক্তারা। সম্প্রতি পাহাড়ি এই শহরে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে রাঙামাটিবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করে কিছু তরুণ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ, নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেবব্রত চৌধুরী কুমকুম, উন্নয়নকর্মী ও গবেষক ললিত সি চাকমা, অনলাইন পত্রিকা সিএইচটি২৪-এর সম্পাদক শামসুল আলম, রাঙামাটি জেলা রেড ক্রিসেন্টের সম্পাদক জিসান বখতেয়ার প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটি শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নজিরবিহীন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁরা বলেন, বিদ্যুতের এমন সংকট রাঙামাটিতে অতীতে কোনোকালেই ছিল না। বক্তারা এর জন্য রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেন।

সমাবেশে পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় বিদ্যুৎসচিবের নিজের আত্মীয়স্বজন থাকায় এবং সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখতে গিয়েই রাঙামাটিবাসী বিদ্যুতের সংকটে পড়ে। ফলে চাহিদার চেয়েও সরবরাহে যে ঘাটতি তা পোষানো সম্ভব হয় না এবং একজন ব্যক্তির কারণে পুরো জেলার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।

সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগকে বুঝতে হবে, উপলব্ধি করতে হবে, কতটা কষ্ট আর ভোগান্তি পাচ্ছে বলেই রাঙামাটির শান্তিপ্রিয় মানুষ দলমত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছে।

মানববন্ধনে রাঙামাটির সামাজিক সংগঠন জীবন, ইয়ুথ, প্রিয় রাঙামাটি, স্কুলবেলা বন্ধু ফোরাম, বন্ধুসভা, সিএইচটি পলিটেকনিক, বিএম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতিসহ যুবলীগ, যুবদল, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল এবং ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


মন্তব্য