kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পিরোজপুরে তিনজনের ফাঁসি

চাঁদপুর সাতক্ষীরায় ১১ জনের যাবজ্জীবন

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কলেজ ছাত্র হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা মামলায় ছয়জন ও সাতক্ষীরা সদরে বেকারি শ্রমিককে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

পিরোজপুর: মঠবাড়িয়া উপজেলায় কলেজ ছাত্র মো. রুবেল আকন হত্যা মামলায় মিরাজ, আব্দুল জলিল ও আবুল কালাম নামের তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, ফারুখ খাঁ ও রিয়াজ খাঁ নামের আরো চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। প্রধান আসামি মিরাজ পলাতক রয়েছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান আকনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে মো. রুবেল আকনের সঙ্গে একই কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। এ ছাড়া আসামিদের সঙ্গে রুবেলদের বাড়ির পাশের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এর জেরে পরিকল্পিতভাবে আসামিরা ২০০৮ সালের ২২ জুন রাতে মোবাইল ফোনে রুবেলকে তাঁর বোনের বাড়ি থেকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়। পরদিন খালে লাশটি ভেসে ওঠে। এ ব্যাপারে রুবেলের বাবা মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে বাদীর লিখিত আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এসআই বজলুর রহমান সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর আবুল কালাম ও ২০০৯ সালে জলিল দোষ স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

চাঁদপুর: মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মিরাজ হোসেন হত্যা মামলায় ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় ৩ নম্বর আসামি আলী আশ্বাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পিপি সাইয়েদুল ইসলাম বাবু জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০০০ সালের ৭ জুন মতলব দক্ষিণের উপজেলার লামচরি গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মিরাজ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় তার বাবা ফজলুল হক বাদী হয়ে একই গ্রামের সেলিম হোসেন, হাসেম ব্যাপারী, আলী আশ্বাদ, মনোয়ারা বেগম, মতিন ও নান্নু মিয়াকে আসামি করে মতলব থানায় একটি মামলা করেন। শুনানি শেষে গতকাল উল্লিখিত রায় দেন বিচারক।

সাতক্ষীরা: সদর উপজেলার বেকারি শ্রমিক আনারুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো তিন মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১৪৮, ১৪৯ ও ৩২৪ ধারা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে দু্ই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় কামরুল ইসলাম নামের আরেক আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আবু তালেব ও আশরাফ হোসেন নামের দুজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন একই উপজেলার দেবনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, মোতালেব ওরফে মতলেব, রাশেদ, নূর ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১১ জুলাই সদর উপজেলার একটি স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষের সময় দেবনগর গ্রামের আমের আলীর ছেলে বেকারি শ্রমিক আনারুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই আনারুলের মামা ইয়াছিন আলী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


মন্তব্য