kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার ‘বৈধ পথে’ ভারতে ইলিশ পাচার

ফখরে আলম, যশোর   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘বৈধ পথে’ ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ‘লাগেজ পার্টি’র শত শত সদস্য মণকে মণ ইলিশ পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

লাগেজ পার্টির পাসপোর্টধারী এসব সদস্য ভারত থেকে বৈধ পথে বাংলাদেশে এসে আবার সেভাবেই ইলিশ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক নারীও লাগেজ পার্টির সদস্য হিসেবে ভারতে যাওয়ার সময় আট-দশটি করে ইলিশ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। ফিরছে স্টিলের বাসন-কোসন, প্রসাধনসামগ্রী, ইমিটেশনের গয়না নিয়ে। ‘বিজনেস ভিসা’ ও ‘মাল্টিপল ভিসার’ সুবিধা নিয়ে এরা সকালে এসে ইলিশ নিয়ে বিকেলে ফিরে যাচ্ছে। আবার পাসপোর্টধারী সাধারণ যাত্রীরাও নিজেদের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে ইলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাগেজ পার্টির দুই শ থেকে তিন শ সদস্য প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করে। ভারতের বনগাঁ, বারাসাত, হাওড়া এলাকার তরুণ ও যুবকরা বিজনেস ভিসা ও মাল্টিপল ভিসা নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ভারত থেকে হরলিক্স, শনপাপড়ি, বিস্কুট, চানাচুর, বাচ্চাদের কয়েক রকম দুধ নিয়ে যশোর, খুলনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আসছে। ফেরার সময় তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে আট-দশটি করে ইলিশ।

বিদ্যুৎ নামের বনগাঁ এলাকার লাগেজ পার্টির এক সদস্য বলে, ‘আমরা ২০-২৫ হাজার টাকার পণ্য নিয়ে আসি। ফেরার পথে কয়েকটি করে ইলিশ নিয়ে যাই। তাতে প্রতি ট্রিপে তিন-চার হাজার টাকা লাভ থাকে। ’

বনগাঁর ব্যবসায়ী পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশে ইলিশের ছড়াছড়ির খবরে আমরা খুবই খুশি। পাসপোর্টধারী কিছু লোক ইলিশ নিয়ে আসছে। বনগাঁ বাজারে সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক কেজি সাইজ এক হাজার ৪০০ রুপি ও ৫০০ গ্রাম সাইজ ৬০০ রুপি দরে। ’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইকবাল বলেন, ‘বিজনেস ভিসায় ভারতীয় নাগরিকরা সকালে এসে বিকেলে ফিরে যেতে পারে। মাল্টিপল ভিসায় দিনে যতবার ইচ্ছা ততবার যাতায়াত করা যায়। এই ভিসার সুবিধা নিয়ে কে কী নিয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ’


মন্তব্য