kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘুষের জন্য অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি

টঙ্গীতে বিক্ষোভ, অভিযুক্ত এএসআইকে প্রত্যাহার

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



টঙ্গীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জহুরা বেগমকে (৩০) পেটে লাথি মেরে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই মো. বিপ্লব হোসেনকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয় তাঁকে।

এর আগে গৃহবধূর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।

জহুরা বেগম টঙ্গী ব্যাংক মাঠ বস্তির রানা মিয়ার স্ত্রী। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

বস্তিবাসী জানায়, গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে টঙ্গী মডেল থানার এএসআই বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বস্তিতে আসে। তারা রানা মিয়ার ঘরে মাদকদ্রব্য খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে পুলিশ রানা ও জহুরাকে পেটে লাথি মারাসহ বেধড়ক পেটায় ও ঘুষ দাবি করে। তাঁদের চিত্কারে বস্তিবাসী ঘটনাস্থলে এসে দেখে জহুরার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে

কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। জহুরা ঢামেকে মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতে বস্তিতে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা মিছিল নিয়ে থানা গেটে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্ল্লোগান দেয়।

সূত্র মতে, জহুরাকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সেখানে যাওয়া হয়নি তাঁর। মঙ্গলবার সকালে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ বস্তির একটি ঘর থেকে আহত জহুরাকে নিয়ে এসে স্থানীয় আবেদা মেমোরিয়াল হাসপাতালে গাইনি বিভাগে ভর্তি করে। গতকাল বুধবার সকালে জহুরাকে ছাড়পত্র (রিলিজ) দেওয়া হলেও তিন ঘণ্টা পর পুনরায় তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে আবেদা মেমোরিয়াল হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক হেমায়েত উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে ও রোগীর সঙ্গে দেখা করার কথা বললে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। ’ পরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রোগীর আলট্রাসনোগ্রামসহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

টঙ্গী মডেল থানার ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার

বলেন, রানা ও জহুরার ঘরে তল্লাশির সময় কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে এএসআই বিপ্লব হোসেনের ফোনে ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।


মন্তব্য