kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভাইয়ের

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পিরোজপুর সড়ক বিভাগের বেকুটিয়া ফেরি ও বলেশ্বর সেতুর টোল আদায়ের ইজারা নিজের স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরই ভাই পিরোজপুরের পৌর মেয়র। গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় প্রেস ক্লাবে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, ‘আমার এ ব্যবসা-বাণিজ্য আজকের নয়, পরিশ্রম করেই এসব করেছি। কিন্তু ওনার (আউয়াল) এখন চোখ পড়েছে আমাদের ওপর। তাই নিজের স্ত্রীকেও আমাদের ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহার ভাইয়ের বিরুদ্ধে করতেও দ্বিধা করছেন না তিনি। আমার বেকুটিয়া ঘাট ও বলেশ্বর ব্রিজের টোলের সঙ্গে কয়েক শ লোকের রুটি-রুজি জড়িয়ে আছে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু উনি হাইকোর্টের আদেশেরও তোয়াক্কা করেন না। নির্বাহী প্রকৌশলীও ওনার তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছেন। ’

পৌর মেয়র আরো বলেন, মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পিরোজপুর বলেশ্বর সেতুর টোল আদায়ের ইজারাদার ছিলেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওই সেতুর ইজারার জন্য তিনি সড়ক বিভাগের ডাকে পর পর পাঁচবার দরপত্রে অংশ নেন। কিন্তু এ সময় প্রতিবারই দু-একটির বেশি দরপত্র জমা পড়েনি। এরপর ষষ্ঠবার দরপত্র আহ্বানের সময় তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় দরপত্র দাখিল করতে পারেননি। এ সুযোগে একটি মাত্র দরপত্র দাখিল করে এমপি আউয়ালের স্ত্রীর মালিকানাধীন মেসার্স সুভাষ এন্টারপ্রাইজ এক কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দরদাতা হন। মেয়র দেশে ফিরে ওই দরপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। এ ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরের তাঁর প্রতিষ্ঠানের পাওয়া দর এক কোটি ছয় লাখ ২০ হাজার ৪৮০ টাকার চেয়ে বাড়িয়ে এক কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৭২০ টাকার দর প্রস্তাব দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি এ নিয়ে রিট দাখিল করলে হাইকোর্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

আদালতের ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে এ-সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দানের অনুরোধ করেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবারও দরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি পিরোজপুরের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের টোল আদায়ের জন্য ইজারাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে মেসার্স আজমীর এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আজমীর হোসেন মাঝি পৌর মেয়রের অনুরূপ অভিযোগ করেন এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ কে এম এ আউয়াল বলেন, প্রভাব খাটানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং ভালো হয় আপনারা সড়ক ও জনপথ বিভাগে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন, কোথাও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না।


মন্তব্য