kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পরীক্ষার সকালে সুপ্রিয়ার লাশ

মানিকগঞ্জে স্বামীসহ আটক ৩

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পরীক্ষার সকালে সুপ্রিয়ার লাশ

সুপ্রিয়া সাহা

সুপ্রিয়া সাহা। গতকাল বুধবার ‘বাংলা নাটক’ বিষয়ে পরীক্ষা ছিল তাঁর।

কিন্তু পরীক্ষাটি আর দেওয়া হয়নি সুপ্রিয়ার। সকালেই ঘরে বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছে তাঁর লাশ।

পরিবারের দাবি, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুপ্রিয়াকে হত্যা করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন সুপ্রিয়া। তিনি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার দাশড়া মহল্লার ব্যবসায়ী সুকুমার সাহার মেয়ে।

এদিকে পরীক্ষা শেষে গতকাল বিকেলে সুপ্রিয়ার হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সহপাঠীরা।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার কৈতরা মহল্লার দীলিপ সরকারের ছেলে দীপাঞ্জল সরকারের সঙ্গে সুপ্রিয়া সাহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর সূত্র ধরে মাস চারেক আগে তাঁরা কোর্ট ম্যারেজ করেছিলেন। দীপাঞ্জল সরকার রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। এরই মধ্যে তাঁদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হয়। প্রথমে রাজি না হলেও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিয়েটি মেনে নেন সুপ্রিয়ার মা। পরে অনুষ্ঠান করে পারিবারিকভাবে ৭ আগস্ট সুপ্রিয়া-দীপাঞ্জলের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর সুপ্রিয়া পূর্ব দাশড়া মহল্লার ভাড়া বাসায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে থাকা শুরু করেন।

সুপ্রিয়ার শ্বশুর দীলিপ সরকার জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে সুপ্রিয়া তাঁর ঘরে ঘুমাতে যান। সকাল ৭টার দিকে ঘরের দরজা অর্ধেক খোলা অবস্থায় দেখতে পান তাঁর স্ত্রী গীতা সরকার। ভেতরে ঢুকে তিনি (গীতা) সুপ্রিয়াকে বিছানার পাশে নিচে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের আলমারি খোলা ও জিনিসপত্র ছড়ানো-ছিটানো ছিল। গীতার চিৎকারে বাড়ির লোকজনসহ প্রতিবেশীরা এসে পরীক্ষা করে দেখে সুপ্রিয়া বেঁচে নেই। পরে পুলিশকে খবর দিলে সাড়ে ৮টার দিকে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

সুপ্রিয়ার বাবা সুকুমার সাহার অভিযোগ, তাঁর মেয়ের স্বামী দীপাঞ্জল মাদকাসক্ত। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দীপাঞ্জল জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। মঙ্গলবার রাত দেড়টা পর্যন্ত স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর কথা হয়েছে। সকালে (গতকাল) তাঁকে স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি মানিকগঞ্জে চলে এসেছেন।

এদিকে পরীক্ষা শেষে গতকাল বিকেলে সুপ্রিয়ার হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে তাঁর সহপাঠীরা। পরে তারা মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করে। সুপ্রিয়া খুবই শান্ত স্বভাবের ছিলেন বলে তাঁর সহপাঠীরা জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সুপ্রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি বলেন, যে বাড়িতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই বাড়িতে বাইরের লোকজনের ঢোকা খুব কঠিন। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুপ্রিয়ার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সুপ্রিয়ার বাবা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


মন্তব্য