kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমতলী

থানায় ওসির সামনে মেয়রের ফাঁকা গুলি

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বরগুনার আমতলী থানায় মঙ্গলবার রাতে প্যানেল মেয়রের সঙ্গে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে ওসির সামনেই নিজের পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন আমতলীর পৌর মেয়র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ।

তাতে আমতলী থানা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমতলীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

জানা গেছে, ঘটনার সময় আমতলী থানা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক শামসুল হক গাজী, চাওরা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান খান বাদল।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. শামসুল হক গাজী জানান, গত সোমবার রাতে স্থানীয় বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. আক্তারুজ্জামান বাদল খানের মামাতো ভাইকে মারধরের চেষ্টা চালান পৌরসভার মেয়র পক্ষের সবুজ ম্যালকার ও মাহমুদুর রহমান প্রিন্স। এ সময় সঙ্গে থাকা বাদল খানের স্ত্রী ববিতা খানম বাধা দিলে তাঁর ওপরও চড়াও হয় তাঁরা। এ ঘটনায় সবুজ ও প্রিন্সকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষ আমতলী থানায় উপস্থিত হয়। সেখানে আমতলী পৌরসভার মেয়র মো. মতিয়ার রহমানের সঙ্গে প্যানেল মেয়র জি এম মুসার বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আমতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতেই নিজের পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন মেয়র মতিয়ার রহমান।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জি এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি আমতলী থানায় উপস্থিত হলে তিনি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান।

প্যানেল মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম মুসা বলেন, থানায় আটক সবুজ ও প্রিন্সকে ছাড়িয়ে নিতে মেয়র মতিয়ার রহমান শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট কথা বলছিলেন। এতে থানায় উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গেও মেয়রের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায় থানার বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজের পিস্তল বের করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন মেয়র। জি এম মুসা বলেন, ‘ঘটনা যা-ই হোক, পুলিশ স্টেশনে বসে গুলি ছোড়ার মতো কিছুু ঘটেনি। এটা মেয়রের ক্ষমতা আর অর্থের দাপট ছাড়া আর কিছুই নয়। ’ তবে আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মতিয়ার রহমান গুলির বিষয় অস্বীকার করে বলেন, একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষে কিছুটা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আমতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানান, বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে দুই পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


মন্তব্য