kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিপজ্জনক মির্জাপুর

ঘটছে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিপজ্জনক মির্জাপুর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গতকাল চারটি বাস-ট্রাকের মধ্যে একসঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ইনসেটে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশে প্রায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবারের ঈদুল আজহার আগে-পরে দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

এসব দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়াতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা এসব দুর্ঘটনার পেছনে অপ্রশস্ত সড়ক, চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতা, চালনায় অদক্ষতা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোকে কারণ হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও অন্তত ৫২ জন আহত হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে এ বছর মহাসড়কের এ অংশে তুলনামূলক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। গতকাল বুধবারও স্থানীয় দুল্যা মুনসুর নামক স্থানে চারটি ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়।

এএসআই আরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে আনফিট গাড়ি রাস্তায় নামানো এবং অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া ঢাকা শহরের ভেতর যেসব চালক গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত, তারা অনেক সময় অপরিচিত মহাসড়কে ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারে না। যারা দু্ই-চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত, তারা মহাসড়কে টানা ১৫-২০ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়ে। এসব কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মির্জাপুরের ইছাইল, আজম রোড ও মহেড়া সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি জানান।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুত্ফর রহমান লালজু জানান, গাজীপুরের চন্দ্রার পর মির্জাপুরের গোড়াই থেকে জামুর্কী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে গাড়ির চাপ অনেক বেশি। ঈদের আগে-পরে তা আরো বেড়ে যায়। রাস্তা অপ্রশস্ত, কোনো কোনো চালকের ওভারটেকিং প্রবণতাসহ নানা কারণে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে চালকদের ক্লান্তি এসে যায়। এরপর চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গর্ত সৃষ্টি হয়, এর ওপর রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এগুলোও দুর্ঘটনার কারণ।

নিরালা পরিবহনের চালক মিলন জানান, মহাসড়কে বিভিন্ন গতির গাড়ি একসঙ্গে চলাচল করে। এতে ওভারটেকিং করতে গেলে অন্য গাড়ির গতি বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেও স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাতে না পেরে দুর্ঘটনা হয়।

মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, রাস্তার চেয়ে যানবাহনের সংখ্যা বেশি। একই রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলাচল করে আর এদের গতিও একেক ধরনের। বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালক এবং তাদের ওভারটেকিং প্রবণতা, দ্রুতগতি, ট্রাফিক আইন মেনে না চলা—ইত্যাদি কারণে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। তা ছাড়া রাস্তা সম্প্র্রসারণের কাজ হওয়ায় গাড়ি চলাচলে সমস্যা হয়। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্পর্কে তিনি বলেন, চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো খুব জরুরি। গাড়িতে চলাচলের সময় শুধু চালকদের ওপর ভরসা না করে চালক যাতে এলোমেলো ও বেপরোয়া গতিতে চালাতে না পারে, সে ক্ষেত্রে গাড়ির যাত্রীদের সচেতন থাকা উচিত। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানানো যেতে পারে। বাস মালিক ও শ্রমিকরা মিলে চালক ও সহকারী চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারেন। ওসি খলিলুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্লোগানসহ ব্যানার মহাসড়কের পাশে লাগানো হয়েছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খোন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, নতুন নতুন চালক আসছে। তাদের অবশ্যই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। মাঝেমধ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও হয়। তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তিনি মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলকে দায়ী করেন।

মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হচ্ছে দ্রুতগতিতে ওভারটেকিং। এক প্রান্ত দিয়ে ওভারটেক করতে গেলে অন্য প্রান্ত দিয়ে আসা গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তা ছাড়া এ সময় উল্টে গিয়ে পাশের খাদেও পড়ে যায়।


মন্তব্য