kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ময়মনসিংহে বিটিসিএলের কাণ্ড

গ্রাহক মৃত, টেলিফোন বিকল, বিল সচল

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মৃত মানুষের নামে বিকল টেলিফোন বিল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস লিমিটেড (বিটিসিএল) ময়মনসিংহ অঞ্চল। এখানেই শেষ না, এ জেলার তিনটি (গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল) উপজেলায় অর্ধেকের বেশি টেলিফোন বছরের পর বছর ধরে বিকল থাকলেও প্রতি মাসে বিল পাঠাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ওই তিন উপজেলার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুরে ৩৫০, ঈশ্বরগঞ্জে ২৫০ ও নান্দাইলে ২৩০টি (মোট ৮৩০) সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সচল রয়েছে যথাক্রমে ১১২, ২০০ ও ২০টি (মোট ৩৩২)। তিন উপজেলায় বিকল রয়েছে ৪৯৮টি টেলিফোন। এসব বিকল সংযোগ সচলের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। কিন্তু মাসে মাসে ন্যূনতম বিল পাঠানো হচ্ছে। বিল জমা হচ্ছে কি না তা দেখারও যেন কেউ নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নান্দাইল পৌর বাজারের শ্রী গগেন্দ্র চন্দ্র সাহার (মৃত) ছেলে শ্রী তপন কুমার সাহা মারা গেছেন ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট। তাঁর টেলিফোনটি বিকল হয়েছে ২০১৩ সালের নভেম্বরে। এর পর থেকে নিয়মিত বিল পাঠাচ্ছে বিটিসিএল। ২০১৬ সালের আগস্টে বিল ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, আগে ও বর্তমান মিটার রিডিং একই। সে ক্ষেত্রে লাইন ভাড়া ৮০ টাকা। ভ্যাট ১২ টাকা। সব মিলে ৯২ টাকা ন্যূনতম বিল।

মৃত তপনের ছোট ভাই গোবিন্দ্র চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ভাই মারা যাওয়ার পর স্থানীয় এক্সচেঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করেছি। সেখানে নাইট গার্ড ছাড়া কাউকে পাইনি। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাতে পারিনি। সমস্যার সমাধানও হয়নি। ’ নান্দাইল পৌর শহরের চণ্ডীপাশার বাসিন্দা (নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক) আলী আফজাল খান বলেন, ‘আমার টেলিফোন লাইন ১০ বছর ধরে বিকল। টেলিফোন সেটটাও খোয়া গেছে। কিন্তু এখনো নিয়মিত বিলের কাগজ পাই। বিল পরিশোধ করি না। সেবা যেহেতু পাই না, বিল দেব কেন?’

ওই পৌর শহরের কাকচরের মো. আবুল হাসিম বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে লাইন বিকল। আমিও নিয়মিত বিলের কাগজ পাই। ’

একই পৌর শহরের গ্রাহক গাজী আবদুস সালাম ভুইয়া (বীরপ্রতীক), নুরুল গণি পলাশ, সবুজ মিয়া, ডা. খাদেমুল হক জানান, তাঁদের সংযোগ প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে বিকল রয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে অফিসে গেলে নাইট গার্ড দিলীপ ছাড়া কাউকে পাওয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনটি উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ময়মনসিংহে বসে অফিস করেন। তাঁদের অবর্তমানে লাইনম্যান ও নাইট গার্ডরা অফিস পরিচালনা করেন। নান্দাইল উপজেলার দায়িত্বে রয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন। তাঁকে কোনো গ্রাহক অফিসে পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের লাইনম্যান মো. আলী বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে টেলিফোনের ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ মাটির নিচ দিয়ে পানি সরবরাহের কাজ করেছে। এ কাজ করতে গিয়ে তারা টেলিফোনের আন্ডারগ্রাউন্ড সংযোগ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। এ কারণে ৮০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মেরামত করে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ’ অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের লাইনম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘জনবলের অভাব ও আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল নষ্ট থাকায় সংযোগ সচল করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা কোনো ধরনের খোঁজখবর না নেওয়ায় ঝুলন্ত তার দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ’ নান্দাইল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জরাজীর্ণ লাইনের কারণে সংযোগ বিকল রয়েছে। এ ব্যাপারে নিয়মিত কাজ চলছে। ’

বিটিসিএল ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খোকন চন্দ্র দাস বলেন, ‘শিগগির এ অচলাবস্থার অবসান হবে। এ জন্য সব উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ করার প্রক্রিয়া চলছে। ’


মন্তব্য