kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বৃষ্টি ঝরলেই ‘জলডুব’

বগুড়া শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর

লিমন বাসার, বগুড়া   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০




বৃষ্টি ঝরলেই ‘জলডুব’

প্রবল বর্ষণে গতকাল বগুড়া শহরের বেশির ভাগ রাস্তা হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। ছবিটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে তোলা। ছবি : ঠাণ্ডা আজাদ

কথা ছিল, বগুড়া শহর হবে তিলোত্তমা নগরী। সে স্বপ্ন ফিকে হয়েছে অনেক আগেই।

এখন বর্ষায় বগুড়া শহরে পাকা সড়ক আছে কি না তা খুঁজে বের করা কষ্টের। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতটাই নাজুক অবস্থায় গেছে, মাঝারি বৃষ্টিতেই বগুড়ার বড় একটা অংশ দেয় ‘জলডুব’। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে এক যুগেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে একটু বৃষ্টিতেই শহরের অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আবার দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভারি বৃষ্টিতে অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে উঠছে পানি।

গতকাল সোমবার দিনভর শহরে কখনো থেমে থেমে, কখনো প্রবলগতিতে বৃষ্টি হয়। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাফিউল কাফি বলেন, গত এক মাসের মধ্যে মাত্র চার ঘণ্টায় এটিই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির কারণে দিনভর শহরে ছিল অসহনীয় যানজট। ডুবে গিয়েছিল শহরের অনেক এলাকা।

বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার সড়ক রয়েছে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। পৌর নির্মাণশৈলী অনুযায়ী সড়কের আনুপাতিক হারে ড্রেনের যে দৈর্ঘ্য থাকার কথা, কার্যত তা নেই। নগরায়ণের নিয়ম অনুযায়ী শহরের আয়তনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকার কথা। আর এসব সড়কের দুই ধারে পাকা ও সুপরিসর ড্রেন থাকাটাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে সেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শহরের আয়তনের আনুপাতিক হারে সড়ক আছে ৭ শতাংশেরও কম। যে পরিমাণ সড়ক রয়েছে তার দুই পাশেও প্রয়োজনীয় ড্রেন নেই। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে ড্রেনের দৈর্ঘ্য মাত্র ৭১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে আবার ২৭০ কিলোমিটার কাঁচা। শহরের পুরনো ১২টি ওয়ার্ডের ড্রেনের প্রশস্ততা মাত্র দুই ফুট। কম প্রশস্তের এই ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি উপচে শহরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ওই পথ দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পচা-নোংরা পানির মধ্যে হাঁটাচলা করতে হয়। আবার বৃষ্টি হলেও রাস্তাঘাট ও ড্রেনের পানি একাকার হয়ে যায়। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ১০ ঘণ্টা জলাবদ্ধ হয়ে থাকে শহরের অভ্যন্তরের ব্যস্ততম এলাকাগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টিতে শহর ও শহরতলির নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাসহ উত্তর দিকে কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, পশ্চিমে বাদুরতলা চকসূত্রাপুর এলাকা, উত্তরের বড়গোলা টিনপট্টি, উত্তর-পশ্চিমের কাটনারপাড়া, সুলতানগঞ্জপাড়া, ফুলবাড়ী, বৃন্দাবনপাড়া, পূর্ব দিকে চেলোপাড়া, নারুলী, দক্ষিণ দিকে সূত্রাপুর, ঠনঠনিয়া, মালগ্রাম, জহুরুলনগরসহ আশপাশের সব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গত বছর কয়েক দফায় টানা ভারি বৃষ্টিপাতে শহর প্রায় ডুবেই গিয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরবাসী পৌর মেয়রকে এ ব্যাপারে সব সময়ই তাগাদা দেয়। জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেতে তাঁর দপ্তরে শহরবাসীর পাঁচ শতাধিক আবেদনপত্র জমা পড়ে আছে। কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যত কোনো কাজই হচ্ছে না। বৃষ্টি শুরু হলেই সাতমাথা থেকে পার্ক রোডের বড় অংশ, শেরপুর রোডের দুটি লিংক রোডের মোড়, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক হয়ে বড়গোলা দত্তবাড়ি মোড়ে যে যানজট লেগে যায় তা সহজে ছুটতে চায় না। ওই পথগুলোতে যানবাহনের প্রায় অর্ধেক পানিতে ডুবে থাকে।

শহরের নিচু এলাকাগুলোর মধ্যে মালতীনগরের নামাপাড়া, জহুরুলনগর, জামিলনগরের অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অসহনীয় দুর্ভোগের কবলে পড়ে এলাকাবাসী। জহুরুলনগরের বাসিন্দা আমিনুল, মীর কাশেম নামের ভুক্তভোগী দুজন জানান, প্রতিবারই পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কাজ কিছুই হয় না।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর নজরুল ইসলাম বলেন, ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার একটা প্রকল্প হাতে নেওয়া আছে। আশা করা যায়, দুর্ভোগ কিছুটা কমবে। সহকারী প্রকৌশলী রেজা জানান, বৃষ্টির পরপরই পৌরসভার একটি দল শহরে নামে। যেখানে জলাবদ্ধতা থাকে সেখান থেকে পানি নামানোর ব্যবস্থা করা হয়।

পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরে নতুন ছয় কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। এটি হলে শহরে জলাবদ্ধতা থাকবে না।


মন্তব্য