kalerkantho


যৌতুক মামলায় এএসপি রাজ্জাক পাবনা কারাগারে

পাবনা প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন মামলায় শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুর রাজ্জাক মিয়াকে পাবনার একটি আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।

গত রবিবার বিকেলে পাবনার আমলি আদালত-২-এ হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন এসএসপি।

আদালতের বিচারক আবু বাছেদ মো. বুলু মিয়া জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ কর্তার শ্বশুর ও মামলার বাদীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান রবিবার রাতে পাবনা প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (সর্বশেষ রাজবাড়ী সদর থানার ওসি ছিলেন) বর্তমানে পাবনার শালগাড়িয়ার বাসিন্দা খলিলুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে ২০১৪ সালের এপ্রিলে বিয়ে দেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বেংরুয়ার আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার। বিয়ের পর থেকে কখনো ১০ লাখ, কখনো ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন রাজ্জাক। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান রাজ্জাক ও তাঁর স্বজনরা।

এ অবস্থায় রাজ্জাকের একাধিক পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতে পারেন স্ত্রী। পরে এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ স্ত্রী বাদী হয়ে স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে গত মে মাসে যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে পাবনার আমলি আদালত-২-এ একটি মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাজ্জাকের বাবা আব্দুল মজিদ মিয়া, মা রাবেয়া বেগম ও ভগ্নিপতি পাষাণ আলী সাগর।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত সমন জারি করলেও কেউ হাজির হননি। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রবিবার দুপুরে পাবনার আমলি আদালত-২-এ হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। জামিন নামঞ্জুর করে এএসপি রাজ্জাক মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বাকি আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পাবনার একটি আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন এএসপি আব্দুর রাজ্জাক মিয়া। পরে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ’

পাবনা জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুুলিশ সুপার মোছা. শামিমা আক্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে বিশেষ শাখা পাবনা থেকে ডিন্টেল ঢাকা, বিশেষ পুলিশ সুপার (ছাত্র-শ্রম/রাজ), এসবি, ঢাকা; বিশেষ পুলিশ সুপার (গোপনীয়, এসবি, ঢাকা; ডিআইজি ঢাকা, রাজশাহী) ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে। ’

 


মন্তব্য