kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রূপ দেখাতে চায় হাওর

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রূপ দেখাতে চায় হাওর

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের মনোমুগ্ধকর হিজল-কড়চের বাগ পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

আন্তর্জাতিক রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বড়গোপটিলা (বারেকের টিলা), যাদুকাটা নদী ও টেকেরঘাট খনিজ প্রকল্পের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ৯ জুলাই এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ওই এলাকাকে পর্যটনের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে।

পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি গেজেটভুক্ত হওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পরও অবকাঠামো নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সম্ভাবনা থাকার পরও সুনামগঞ্জের দর্শনীয় এ স্থানগুলো সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারছে না।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ একর জায়গায় পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকার গেজেট করেছে। সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে ২০১৫ সালের ২৫ মে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে প্রস্তাবিত ও ঘোষিত পর্যটন সম্ভাব্যতা, পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির বর্ণনা, প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জমির বিবরণসহ নানা বিষয় উল্লেখ করে অবকাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত এলাকার ভৌগোলিক ও সৌন্দর্যের বর্ণনা, পর্যটক ও জীববৈচিত্র্য-বিষয়ক তথ্য জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০০৩ সাল থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর সহব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দাতা সংস্থা এসডিসি তিন দফা হাওর ব্যবস্থাপনায় অর্থায়ন করে। গত ৩১ আগস্ট তৃতীয় দফা মেয়াদের সময় শেষ হওয়ায় সুইস দাতা সংস্থা এসডিসি আর অর্থায়ন করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এতে বিপাকে পড়ে সরকার। ব্যবস্থাপনায় সংকট দেখা দেয়। সরকার বিভিন্ন সূত্রে দাতা খুঁজলেও পায়নি। জলবায়ু তহবিলের টাকায় আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রকে (আইইউসিএন) দিয়ে ১৬ মাসের একটি খণ্ডকালীন ও সীমিত প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। এই প্রকল্পটি শিগগির অনুমোদন পাবে।

সুনামগঞ্জের জীববৈচিত্র্য গবেষক কল্লোল তালুকদার চপল বলেন, ‘এই হাওর প্রমোদ ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করায় সংকট প্রকট হচ্ছে। প্রমোদ ভ্রমণে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রতিবেশসংক্রান্ত সচেতনতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এর বিনাশ ডেকে আনা হচ্ছে। বিজ্ঞানসম্মত, সুচিন্তিত ও আন্তরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই। ’

স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপবৈচিত্র্যের কাছে দেশের যেকোনো পর্যটন এলাকা হার মানবে। ’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী ও টেকেরঘাটের পরিত্যক্ত লেক দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। তারা থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা না পেয়ে হতাশ হয়। আমাদের পর্যটন সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। ’

সুনামগঞ্জের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. লুতফুর রহমান বলেন, ‘পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আমরা বহু আগে স্থান নির্ধারণ করেছি। সেই স্থান মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন আকারে পর্যটন সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে গেজেট করেছে। তা ছাড়া আমরা করপোরেশনকে একাধিকবার পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের কথা জানিয়েছি। প্রস্তাবিত পর্যটন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ জেলার আর্থসামাজিক উন্নতি হবে। ’


মন্তব্য