kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

‘স্বামীর লাশ ফেরত চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘স্বামীর লাশ ফেরত চাই’

‘একটু সুখের আশায় বৌ-বাচ্চা ছেড়ে ও গিয়েছিল সৌদিতে। কিন্তু ক্যামনে কী হইল।

আমি তা জানতে চাই। দ্রুত আমি স্বামীর লাশ চাই। ’ এ কথা বলে আট বছরের মেয়ে সানিয়া আক্তার সুচিকে বুকে টেনে নিয়ে অঝোরে কান্না শুরু করেন সৌদি আরবের দাম্মামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রফিকুল ইসলাম বাচ্চু হাওলাদারের (৩৮) স্ত্রী নাজনীন বেগম। গতকাল রবিবার সাভার পৌর এলাকার স্মরণিকা আবাসিক এলাকায় নিহতের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় বিলাপরত নাজনীনকে স্বজনরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

পটুয়াখালীর বাউফল থানার কেশবপুর গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাচ্চু হাওলাদার প্রায় ৯ বছর আগে সৌদি আরব যান। কয়েক বছর আগে তিনি একবার বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে দেশে এসেছিলেন। পরে আবার কর্মস্থলে চলে যান। এরই মধ্যে আশুলিয়ার কুটুরিয়া এলাকায় একখণ্ড জমি কেনার জন্য বায়নাও করেন। স্ত্রীকে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, বেশি দিন আর বিদেশে থাকবেন না। দেশে এসে একটি বাড়ি বানিয়ে এলাকায় ব্যবসা করে সংসার চালাবেন। কিন্তু তাঁদের সব আশা নিমেষে মিলিয়ে গেল।

নিহতের স্ত্রী নাজনীন জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৌদি আরবে নিজের কর্মস্থল থেকে মাইক্রোবাসে করে বাসায় ফেরার পথে বাচ্চু হাওলাদারসহ ছয় বাংলাদেশি একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। এখন পর্যন্ত নিহত বাচ্চুর মরদেহ সৌদি আরবেই রয়েছে। নাজনীন দ্রুত তাঁর স্বামীর মরদেহ বাংলাদেশে আনার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

নিহতের স্ত্রী ও সন্তান সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন স্মরণিকা আবাসিক এলাকায় মৃত আব্দুল লতিফের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এ বাড়িতে এখন কেবলই শোকের মাতম। তাঁদের প্রতিবন্ধী সন্তানটি স্থানীয় ডিজ-অ্যাবল স্কুলের শিক্ষার্থী। প্রতিবন্ধী মেয়ের চিন্তায় বিষণ্ন নাজনীন এখন চোখে কেবলি অন্ধকার দেখছেন। ভবিষ্যৎ দিনগুলো কিভাবে অতিবাহিত করবেন, সে চিন্তা তাঁকে কুরে খাচ্ছে। গোটা পরিবারকে অন্ধকারে ফেলে দিয়ে তাঁর স্বামী চলে গেছেন পরপারে, থেমে থেমে এমন কথাই বলছেন নাজনীন।


মন্তব্য