kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডিবির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

শ্রীপুরে ব্যবসায়ীরা ফের আন্দোলনে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমীবাজারে টানা কর্মসূচি স্থগিত করার পরও গতকাল রবিবার ফের বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীরা। তারা এবার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

দিনভর দোকানপাটও বন্ধ রাখে তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যবসায়ীর অবিলম্বে মুক্তিসহ গোয়েন্দা পুলিশের দায়ের করা আলাদা দুটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে টানা কর্মসূচি পালন করছিল তারা। একপর্যায়ে আমরণ অনশন শুরু করলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি ভেঙে ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত করতে গেলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে গতকাল থেকে ফের আন্দোলনে নামে ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমির হোসেন কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আশ্বস্ত হয় তারা। এরপর গত শনিবার দুপুরে কর্মসূচি স্থগিত করে সবাই দোকানপাট খোলে। কিন্তু বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়া বরমীবাজারে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করতে যান। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল থেকে বাজারের হাজারখানেক ব্যবসায়ী খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। দুপুরে উত্তরবাজারে মানববন্ধন করে ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধন শেষে সেখানে তারা সমাবেশ করে। বণিক সমিতির সভাপতি অহিদুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী নেতা আলমগীর হোসেন মোড়ল, ভোলানাথ সাহা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল বরমীবাজারের আমির ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করে। ওই সময় এসআই রফিকুল ইসলাম দোকান মালিককে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দণ্ড দেওয়ার ভয় দেখান। হাকিমের উপস্থিতি ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর ঘটনা নিয়ে বাগিবতণ্ডা হয়। এরই জেরে অভিযানে অংশ নেওয়া এসআইসহ চার সদস্যের ওপর চড়াও হয় ব্যবসায়ীরা। তারা এসআই রফিকুলসহ চারজনকে আধাঘণ্টা আটকে রাখে। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে তাদের উদ্ধার ও তিন ব্যবসায়ীকে আটক করে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বস্ত করতেই গত শনিবার বিকেলে আমি বরমীবাজারে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু বাইরের লোক ব্যবসায়ীদের আবারও ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছে। ’


মন্তব্য