kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

গাদাগাদির হলজীবন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাদাগাদির হলজীবন

এভাবে গণরুমে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। ছবিটি গতকাল শেখ হাসিনা হল থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র তিনটি হলে ৪০ শতাংশ ছাত্রীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বেগম ফজিলাতুননেসা হলের আসন সংখ্যা ৪৪০। অথচ সেখানে থাকছে ৭০০ ছাত্রী। বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩৯০ আসনের বিপরীতে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ৭২১ জন ছাত্রী আছে। এতে বেশির ভাগ সিটেই দুজন করে ছাত্রীকে থাকতে হচ্ছে।

এ ছাড়া শেখ হাসিনা হলের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রথম ফেজের কাজ সম্পন্ন হওয়া ওই হলের ২৬০ আসনের বিপরীতে রয়েছে ৩৮৭ জন ছাত্রী। এ ছাড়া তিনটি হলেই রয়েছে একাধিক গণরুম। এসব গণরুমে গাদাগাদি করেই বাস করছে ছাত্রীরা। এ কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা এবং ঘুমানোর সুযোগ পায় না। প্রতিটি গণরুমে একজন ছাত্রীর জন্য মাত্র দেড় হাত জায়গা বরাদ্দ রয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রীরা।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা হলের গণরুমের এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের এতটুকু রুমে ৩৪ জন ছাত্রীকে থাকতে হয়। একজনের জন্য এত কম জায়গা যে মাঝেমধ্যে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে না, কোনো জেলহাজতে আছি। এভাবে থেকে পড়াশোনা করতে পারছি না। শুধু নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এখানে আছি। ’

খালেদা জিয়া হলের ১০৪ নম্বর গণরুমের ছাত্রী নুসরাত জাহান নিশি বলেন, ‘আমাদের সমস্যার শেষ নেই। এখানে থাকা, গোসল, খাওয়া ও পড়া কোনোটাই ঠিকভাবে করা সম্ভব না। এতগুলো মানুষের জন্য বাথরুম সীমিত। পানির অভাব এবং ছাত্রীদের ভিড়ে প্রায়ই প্রয়োজন মেটাতে দোতলায় বা তিনতলায় যেতে হয়। এভাবে জীবনযাপন করা খুবই কঠিন। ’

এদিকে আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছাত্রীদের দুর্ভোগ আরো প্রকট। তাদের বেশির ভাগই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন মেসে থাকে। এসব মেসে ছাত্রীদের কোনো নিরাপত্তা নেই বলে জানিয়েছে তারা। এতে তাদের সব সময় উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। এ ছাড়া শহরের ছাত্রীদের প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। অন্যদিকে কিছু ছাত্রী ক্যাম্পাসের পাশের বিভিন্ন মেসে থাকে। এসব মেসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোড শেডিং, পানির সংকট, নোংরা পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতাসহ নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ছাত্রীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রীদের এ সমস্যাগুলো আমাদের কমবেশি জানা আছে। তাই শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকার নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সমস্যার কথা বিবেচনা করে এবং ছাত্রীদের অনুরোধেই তাদের গণরুম বা ডাবলিংয়ে সিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আবাসিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। ’


মন্তব্য