kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৌদিতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু

আরিফ দেখলেন না ছোট ছেলের মুখ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আরিফ দেখলেন না ছোট ছেলের মুখ

শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল সৌদিপ্রবাসী আরিফ হোসেনের (২৭)। স্ত্রীকে তিনি বলে রেখেছিলেন, দেশে ফেরার দিন যেন এক বছর বয়সী ছেলে আরিয়ানকে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, সব কথাকে স্মৃতি করে আরিফই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত শনিবার সৌদি আরবের দাম্মামে দুর্ঘটনায় নিহত হন আরিফ।

নিহত আরিফ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।

এদিকে গতকাল রবিবার আরিফের বাড়িতে গিয়ে চোখে পড়ে করুণ দৃশ্য। সেখানে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি দেখে এক বছরের আরিয়ান শুধু তাকিয়ে থাকে। এ কান্নার অর্থ সে বোঝে না। সে জানে না, বাবার আদর-স্নেহ থেকে সে চিরবঞ্চিত হয়েছে। কোনো দিন সে বাবা বলে ডাকতে পারবে না।

এর আগে গত শনিবার ভোরে সৌদি আরবের দাম্মামের জলদিয়া এলাকায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় পাইপের ভেতরে পড়ে গিয়ে আরিফসহ দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সকাল ১১টার দিকে মোটা পাইপের ভেতর থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ দাম্মাম সেন্ট্রাল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্র মতে, মুরাদনগর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের আরিফ পরিবারের চতুর্থ সন্তান। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে যান। তাঁর উপার্জনের টাকায় মা ও একমাত্র সন্তানসহ আট সদস্যের পরিবারটি চলত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে ওই পরিবারের সবাই নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। এদিকে তাঁর স্বজনরা লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনসুর উদ্দিন বলেন, ‘আমি নিহত আরিফের বাড়িতে গিয়েছিলাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবারকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ’


মন্তব্য