kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংস্কার হয়নি ভাঙা বেড়িবাঁধ

মনপুরায় জোয়ারে আমনের চারা নষ্ট

ভোলা প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভোলার মনপুরায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি ঢুকে পাঁচটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক একর আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে।

পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ২ নম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতীন, পূর্ব সোনারচর ও ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক, চৌমুহনি, পূর্ব কুলাগাজীর তালুক ও ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামের রোপা আমন ধান পচে যাচ্ছে। জোয়ারের সময় বেড়িবাঁধের ভেতরে পানি ঢুকে আমন ধানের চারা ডুবে যায়। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পানি সরাতে পারছেন না কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মনপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুলাগাজীর তালুক, ঈশ্বরগঞ্জ, চৌমুহনী গ্রাম ও হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার পূর্ব পাশের পাকা রোডসংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে পূর্ব সোনার চর ও চরযতীন গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকছে। জোয়ারের প্রবল স্রোতে পাকা সড়কে নবনির্মিত ব্রিজটি ভেঙে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া আমন ধানের ক্ষেতে এখন ছোট ছোট নৌকা চলছে। আশপাশে রোপণ করা আমন ধানের চারা পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে থাকা আমন ধানের চারা পচে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকের চোখে-মুখে এখন হতাশার ছাপ।

স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের সামনে দ্রুত রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে প্রতিদিন জোয়ার-ভাটায় ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। তা ছাড়া জলাবদ্ধ অবস্থায় থেকে শত শত একর জমির আমন ধান পচে যাচ্ছে।

পূর্ব সোনারচর গ্রামের সোলেমান, জলিল ও রফিক জানান, জমি লগ্নি, বীজ সংরক্ষণ, বীজ প্রস্তুত, জমি তৈরি, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। নতুন করে রোপণ করার জন্য এখন বীজতলায় আমন ধানের চারাও নেই। তা ছাড়া কৃষি বিভাগ থেকেও তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

মনপুরা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর আবাদি জমিতে এবার আমন ধানের চাষ করেছে কৃষকরা। কিন্তু ফসল ঘরে উঠতে না উঠতে রোপণ করা আমন ধানে পচন দেখা দিয়েছে। কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিচ্ছে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে ঢোকা জোয়ারের পানি।


মন্তব্য