kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দাউদকান্দি উপজেলা সড়ক

এক কিলোমিটারে দেড় হাজার গর্ত

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এক কিলোমিটারে দেড় হাজার গর্ত

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সড়ক পেরোতে আগে সময় লাগত পাঁচ মিনিটি। এখন লাগে এক ঘণ্টা। তাও অনেকে ভয়ে যেতে চান না। কারণ এ রাস্তায় ছোট-বড় মিলিয়ে গর্ত আছে প্রায় দেড় হাজার। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌরসভার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। এই সড়ক পেরোতে আগে সময় লাগত পাঁচ মিনিটি।

এখন লাগে এক ঘণ্টা। তাও অনেকে ভয়ে যেতে চান না। কারণ এ রাস্তায় ছোট-বড় মিলিয়ে গর্ত আছে প্রায় দেড় হাজার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের অংশ ছিল দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি। দাউদকান্দি থানার সামনে থেকে ফেরিঘাট হয়ে চলাচল করত হাজার যানবাহন। মেঘনা-গোমতী সেতু হওয়ার পর মহাসড়কের পুরনো রাস্তাটির খোঁজ রাখেনি কেউ। বর্তমানে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় প্রবেশের একমাত্র সড়ক এটি। দিন যত যাচ্ছে তত খারাপ হচ্ছে সড়ক। দুই-তিন ফুট গভীর গর্তও তৈরি হয়েছে। পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পরও রাস্তাটির উন্নতি হয়নি। এ নিয়ে জনগণের অক্ষেপ ও দুর্ভোগের শেষ নেই।

গত সোমবার সরেজমিনে গেলে সড়কটিকে মনে হয়েছে খালের মতো, যার দুই পাড়ে বাঁধ। যানবাহনের চালকরা অন্ধলোকের মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আর নতুন চালক যাত্রী নিয়ে গিয়ে গাড়ি উল্টে ময়লা পানি খেয়ে সাঁতরে পারে উঠেছে। আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তি অটোরিকশা দিয়ে উপজেলায় যাওয়ার পথে গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে যান। তাঁর সঙ্গে থাকা কাগজপত্র সব পানিতে পড়ে যায়। তাঁর পরিধানের পোশাকও ভিজে যায়। তিনি বলেন, ‘দাউদকান্দি সাবরেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছিলাম। উপজেলার প্রধান সড়কের এমন বেহাল। এত বড় বড় গর্ত চালকও আঁচ করতে পারেননি। তাই গাড়ি উল্টে কাগজপত্র ও কাপড়চোপড় ভিজে যায়। এ বেহাল রাস্তার কারণে জমি রেজিস্ট্রি করা হলো না। ’

একটু সামনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পিকআপ ভ্যান গর্তে পড়ে আটকে আছে। পেছন থেকে ঠেলে তোলার চেষ্টা চলছে। চালক মনির হোসেন বলেন, ‘আমার জীবনে এমন বেহাল রাস্তা দেখিনি। মাল আনতে উপজেলা বাজারে ঢুকতে গিয়ে গর্তে আটকে এখন খালি গাড়িই তুলতে পারি না। মালবোঝাই করে আনলে কী অবস্থা হতো?’

রাস্তার বেহাল দেখে অনেকে দুই পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন উপজেলায়। আবদুল হালিম নামে এক স্কুল শিক্ষক একটি ব্যাগ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন ছাড়া কোনো লোক উপজেলায় আসতে চায় না। উপজেলার রাস্তার কথা শুনলেই গা শিউরে ওঠে। ’

উপজেলা বাজারের ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুই-তিন বছর আগে রাস্তাটি মোটামুটি ভালো ছিল। তখন সাধারণ জনগণ উপজেলা ও পৌরসভায় কোনো কাজে এলে ক্রেতাদের ভিড়ে মার্কেটগুলো জমজমাট থাকত। রাস্তার দুরবস্থার কারণে উপজেলায় বা বাজারে জনগণ আসতে ভয় পায়। আর বৃষ্টি হলে গাড়ির চাকা দেবে বডিসহ পানিতে ডুবে যায়। ’

দাউদকান্দি পৌরসভার সাবেক মেয়র ভিপি আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এ সড়কটি সড়ক ও জনপথের অধীনে থাকায় স্থানীয় সরকার অর্থাৎ পৌরসভা থেকে এর মেরামত কাজ সম্ভব হয়নি। আমার চেষ্টায় সড়ক ও জনপথ থেকে রাস্তাটি পৌরসভার অধীনে ন্যস্ত করা হয়। পরে সড়কটি মেরামতের জন্য দরপত্র দেওয়া হয়। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সেই কাজ করা সম্ভব হয়নি। ’

দাউদকান্দি পৌর মেয়র নাঈম ইউছুফ সেইন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করি। রাস্তাটি আধুনিক ডিজাইনে করার জন্য দরপত্র চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। ’


মন্তব্য