kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রংপুরে বীজ ডিলারের প্রতারণা

কৃষি দপ্তরে চাষিদের নালিশ

রংপুর অফিস   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আমন মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় জিরাশাইল (ব্রি-৩৪) ধানের বীজ রোপণ করে রংপুরের বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জের কমপক্ষে ৩০ কৃষক প্রতারিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুনাফা লাভের জন্য আমন মৌসুমের ধানবীজের পরিবর্তে বোরো মৌসুমের (শীত) মেয়াদোত্তীর্ণ ধানের বীজ গছিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই কৃষকদের হাতে।

ওই বীজের চারা রোপণ করার ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে শীষ বের হয়ে নষ্ট হচ্ছে ক্ষেত।

গাছে ধান নেই, আছে শুধু পাতান। এ ঘটনায় ওই ডিলারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়ার কৃষক ওবায়দুল হোসেন ভালো ফলনের আশায় বদরগঞ্জ শহরের কথাকলি সড়কের ‘মোর্শেদা ট্রেডার্স’ থেকে আমন মৌসুমের জন্য ১০ কেজি জিরাশাইল (ব্রি-৩৪) জাতের ধানবীজ ২৩০ টাকা কেজি দরে কেনেন। সে অনুযায়ী তিনি শ্রাবণ মাসে ধানের চারা রোপণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী আমন ধান রোপণ করার তিন মাসের মধ্যে গাছে শীষ আসার কথা।

অথচ রোপণ করা ওই ধানের চারাগুলো ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে দ্রুত বেড়ে ফুল আসতে শুরু করে। প্রথমে ভুক্তভোগী কৃষকরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারে ওই ধানবীজ ছিল গত শীত মৌসুমের, যা বোরো মৌসুমের মাঘ মাসে রোপণ করার নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অনুমোদিত ডিলার দিলীপ কুমার কুন্ডু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে গত মৌসুমের অবিক্রীত বীজ স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের দিয়ে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন।

বদরগঞ্জ শহরের কথাকলি সড়কের মোর্শেদা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আকতারুজ্জমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে ধোঁকা দিয়ে বিএডিসির ডিলার দিলীপ কুমার কুন্ডু জিরাশাইল ধানবীজের কথা বলে শত শত কেজি ধানবীজের প্যাকেট বিক্রি করতে দিয়েছিলেন। না বুঝে ওই বীজ বিক্রি করে এখন কৃষকদের কাছে আমি প্রতারক হয়েছি। ’ এ জন্য তিনি দিলীপ কুন্ডুকে দায়ী করে আরো বলেন, ‘তিনি পাশের উপজেলা পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিনশিলা বাজারের আরেক বীজ ব্যবসায়ী হাসান মিয়ার কাছেও ওই বীজ বিক্রি করতে দিয়েছিলেন। তিনি (দিলীপ) পরিকল্পিতভাবে আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীদের ফাঁসিয়েছেন। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন মাসের মধ্যে চারা থেকে যে ধানের শীষ বের হওয়ার কথা, কিন্তু ওই ক্ষেতে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে শীষ বের হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে অন্য ধানের চেয়ে এর গাছগুলো বেশ লম্বা দেখা যায়। শীষ ধরা ধানগাছগুলো পাতানে পরিণত হয়েছে। আবার আগাম শীষ বের হওয়ার কারণে গাছে পোকার আক্রমণও বেড়েছে।

চাষি ওবায়দুল হোসেন বলেন, ‘অনেক আশা করে প্রায় তিন বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধানের চারা রোপণ করি। কিন্তু রোপণের ২০ দিনের মধ্যে গাছে শীষ ধরায় সন্দেহ হয়। পরে জানতে পারি, ওই ধানবীজ শীতকালে রোপণ করতে হয়। কিন্তু বীজ ব্যবসায়ী বেশি লাভের জন্য পুরনো বীজ প্যাকেট করে আমাদের গছিয়ে দিয়েছেন। এখন ওই ডিলারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেও কোনো ফল হচ্ছে না। ’

একইভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন দোয়ানিহাজিপুর সাতঘরিয়াপাড়ার অপর কৃষক আতানুর রহমান ও নির্মল রায়। তাঁরা প্রত্যেকে এক একর করে জমিতে ওই ধান রোপণ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার উত্তরা ট্রেডার্সের মালিক দিলীপ কুমার কুন্ডু বলেন, ‘আমি সরাসরি ওই কৃষকদের কাছে ধান বিক্রি করিনি। এখন কেউ যদি কারো কাছ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ রোপণ করে ক্ষতির শিকার হয়, তা আমার দেখার ব্যাপার নয়। ’

বদরগঞ্জ কৃষি বিভাগের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কনক রায় বলেন, এক মৌসুমের ধান অন্য মৌসুমে আবাদ করলে ফলন হয় না। এ ছাড়া ওই বীজ হয়তো মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এ কারণে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবার রহমান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য