kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেশবপুরে বন্যা

ক্ষতিগ্রস্তরা ঘর চায়

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যশোরের কেশবপুরে সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে আসার পর অনেকেই এখনো স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলতে পারেনি।

কেউ কেউ ভেঙে পড়া বাড়িতে পলিথিন দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী নিবাসে ঠাঁই নিয়েছে। সামনের শীতে তাদের আরো কষ্ট করতে হবে, বিশেষ করে ঘরহারা দিনমজুরদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কেশবপুর পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের এ দুর্ভোগের কথা জানা গেছে।

সরেজমিন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনমজুর হাসান আলী গাজী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে ভেঙে পড়া ঘরের ভিটায় পলিথিন টানিয়ে তার নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রম বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় আমার। মাঠঘাটে এখনো পানি থই থই করছে। কোনো কাজকর্ম নেই। পরিবারে সদস্য চারজন। স্কুলপড়ুয়া দুটি শিশুকন্যা রয়েছে। ঘর ভেঙে যাওয়ায় থাকা-খাওয়াসহ সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ’

শুধু হাসান আলী গাজী নন, তাঁর দুই ভাই সহিদুল, জাহিদুলসহ অনেকেরই এ অবস্থা। ওই এলাকার ফিরোজা বেগম, কপ্পুর খাতুন, লিয়াকত আলী, ইয়াছিন আলী ও আব্দুল করিম জানান, সর্বনাশা বন্যায় তাঁদের বসতঘর ভেঙে গেছে। এখন নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্যও তাঁদের নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে আগামী শীত মৌসুমে তাঁদের কঠিন সময় পার করতে হবে।

ফিরোজা বেগম ও কপ্পুর খাতুন জানান, তাঁদের একমাত্র থাকার ঘর ভেঙে যাওয়ায় খোঁজাখালী খালের বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে এখন আবার নতুন করে তাঁদের পক্ষে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

৭ নম্বর ওয়ার্ড মধ্যকুল এলাকার বাসিন্দা রেজাউল বাসার খান জানান, বন্যায় তাঁর থাকার ঘরটি ধসে পড়েছে। এ কারণে স্কুলপড়ুয়া তিনটি ছেলেকে আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সামনে তাদের ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু ঘর না থাকায় সন্তানদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। পৌরসভার ভোগতী, হাসাবপোল, ভাবানীপুর, মধ্যকুল, আলতাপোল, বাজিতপুরসহ কেশবপুর সদরের বন্যাকবলিত এলাকায় এমনই চিত্র বিরাজ করছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শেখ আতিয়ার রহমান জানান, সর্বনাশা বন্যায় তাঁর ওয়ার্ডে বসবাসকারী মানুষের ১২৯টি ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এলাকাবাসী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে ভিটের ওপর পলিথিন টানিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছে। ঘরহারা মানুষজন বেশির ভাগই শ্রমজীবী তথা দরিদ্র শ্রেণির হওয়ায় তাদের পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিনি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনকে ঘরহারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার খান জানান, তাঁর ওয়ার্ডে ২৬০টি ঘর ভেঙে পড়েছে।

কেশবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলা জানান, তাঁর ইউনিয়নে ৬৮৯টি ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যায় পৌর এলাকায় ভেঙে পড়া বাড়িঘরের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। ভুক্তভোগীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


মন্তব্য