kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৬

বাড়িতে শোকের মাতম

পাঁচজনের বাড়ি বরিশাল বিভাগে

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাড়িতে শোকের মাতম

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের বাড়িই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। গত বৃহস্পতিবার সকালে মাইক্রোবাসে দাম্মাম থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আল জুবাইল-ডাহারান সড়কে সেন্ট্রাল হসপিটালের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

তাঁরা হলেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার সহোদর বাবুল এবং সহিদুল, উজিরপুরের রফিকুল, ভোলার সাহাবুদ্দিন ও পটুয়াখালীর বাচ্চু। একই ঘটনায় নিহত রানার বাড়ি পাবনা জেলায়। তাঁদের মরদেহ বর্তমানে দাম্মামের কাতিপ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় পরিবারের দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার সহোদর বাবুল ও সহিদুলের মা-বাবা। গতকাল সরেজমিনে তাঁদের গ্রামের বাড়ি উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ছয়গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শোকে স্তব্ধ মা-বাবা ও স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। শোকের ছায়া বাড়ির সীমানা ডিঙ্গিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গ্রামটিতে। বাবুল-সহিদুলের বাবা আব্দুল হাকিম হাওলাদার যে যাচ্ছে তাঁকে জড়িয়ে ধরেই মাতম করে বলছেন, ‘আমার দুই ছেলেকে এনে দাও। আমার আর কিছু লাগবে না। ’

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, চার ছেলের মধ্যে বাবুল মেঝো আর সহিদুল সেজো। ঘরের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে জমি বিক্রি করে ওদের দুই ভাইকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। ওই দুজনের ওপরই পুরো পরিবারের নির্ভরতা ছিল। আজ যে কী হয়ে গেল। ছেলেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আকুতি জানান তিনি।

একই অবস্থা উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নের বাহেরঘাট গ্রামে রফিকুলের বাড়িতে। দুর্ঘটনায় ছোট ছেলে রফিকুলকে হারানোর শোকের সঙ্গে পরিবারটিতে যুক্ত হয়েছে বড় ছেলের জন্য উত্কণ্ঠা। কারণ একই ঘটনায় আহত হয়েছেন বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম। তিনি দাম্মামের কাতিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রফিকুলের বাবা শহিদ মুন্সিও ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

সৌদিতে অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে বাবুলের চাচা মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় মাইক্রোবাসযোগে বাবুল ও তার ছোট ভাই সহিদুলসহ ১০ বাংলাদেশি দাম্মাম থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে কাজে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আল জুবাইল-ডাহারান সড়কে সেন্ট্রাল হসপিটালের কাছে আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বাবুল ও সহিদুলসহ ছয়জন মারা যায়।

আলী হোসেন আরো জানান, ওই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর আত্মীয় উজিরপুরের জল্লা গ্রামের শহিদ মুন্সির ছেলে রফিকুল ইসলামও নিহত হয়।


মন্তব্য