kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ

ভাঙনে দুই ঘাট বন্ধ পাঁচ ফেরি অচল

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভাঙনে দুই ঘাট বন্ধ পাঁচ ফেরি অচল

ভাঙনের কবলে পড়ে গতকাল সকালে ফের বন্ধ হয়ে যায় দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট। ওই ঘাট চালু করতে কাজ শুরু করেছে বিআইডাব্লিউটিএর কর্মীরা। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দুটি ভাঙনের কবলে পড়ে বন্ধ রয়েছে। পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় চলাচলকারী ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না।

পাশাপাশি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, কাবেরী, মাধবীলতা ও হাসনাহেনা নামের পাঁচটি ফেরি বিকল হয়ে থাকায় নৌপথে ফেরি সংকট দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে পারাপার ব্যাহত হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক শ গাড়ি। এদিকে ঘাটের পরিস্থিতি দেখতে গতকাল সকালে বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মোজাম্মেল হক দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন।  

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, ভাঙন অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়ায় চারটি ফেরিঘাটে কোনো ঘাট স্থির রাখা যাচ্ছে না। গতকাল সকালে ৩ নম্বর ফেরিঘাট ফের ভাঙনের কবলে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪ নম্বর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। তবে চারটি ঘাটের দুটি বন্ধ থাকায় চালু থাকা অন্য দুটি ঘাট দিয়ে এখন কোনো রকমে গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠানামা করছে। এদিকে নৌপথের বহরে ১৮টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি রো রো (বড়), তিনটি কে-টাইপ (মাঝারি) ও ছয়টি ইউটিলিটি (ছোট)। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে পাঁচটি ফেরি অচল হয়ে আছে। মেরামতের জন্য ওই ফেরিগুলো পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে রাখা হয়েছে। পাঁচটি ফেরি বিকল হয়ে থাকায় নৌপথে ফেরির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মায় তীব্র স্রোতের প্রতিকূলে ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এতে সময় বেশি লাগায় ফেরির ট্রিপের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান জানান, গতকাল সকাল থেকে বন্ধ থাকা ৩ নম্বর ঘাটটি ফের চালু করতে ওই ঘাটের পাশে নতুন একটি পকেটপথ তৈরির কাজ চলছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩ নম্বর ঘাটটি চালু করা সম্ভব হবে। এদিকে রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৫০০ মিটার এলাকায় এখনো ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ৩৬২ মিটার এলাকা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ভাঙনরোধে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ (বালুভরা বস্তা) ডাম্পিং করার কাজ চালানো হচ্ছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত সেখানে ১৭ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এদিকে ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেরি ও ঘাট সংকটের কারণে পারাপার ব্যাহত হওয়ায় গতকাল দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক শ বিভিন্ন গাড়ি আটকে পড়ে। এতে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ইউনিয়ন বোর্ড এলাকা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি দেখতে গতকাল সকালে বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন।


মন্তব্য