kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নান্দাইল

২৫ বছর পর মাকে জড়িয়ে ধরলেন মেয়ে

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৫ বছর পর মাকে জড়িয়ে ধরলেন মেয়ে

২৫ বছর পর মায়ের দেখা পেয়ে জড়িয়ে ধরেন মেয়ে টুকিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাফিয়া আক্তার (৪৫)। গৃহপরিচারিকার কাজ করেন উপজেলা পরিষদের স্টাফ কোয়ার্টারে।

পাঁচ বছরের কন্যাসন্তান টুকিনকে নিয়ে রান্না ঘরে কাজ করতেছিলেন। একসময় চোখের আড়াল হয়ে যায় মেয়ে। বহু খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। ২৫ বছর আগের ঘটনা এটি। সেই মেয়েকে মা গত মঙ্গলবার খুঁজে পেয়েছেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কাকচর গ্রামের মো. জিন্নত আলীর স্ত্রী সাফিয়া আক্তার জানান, দুই  কন্যাসন্তানের পর স্বামী ফেলে রেখে চলে যায়। সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েন। এ অবস্থায় বাড়ির কাছে উপজেলা পরিষদের স্টাফ কোয়ার্টারে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সেই সময়ে উপজেলা প্রকৌশলীর বাসায় মাসিক বেতনে কাজ শুরু করেন তিনি। পাঁচ বছরের শিশুসন্তান টুকিন থাকে তাঁর সঙ্গে। তিনি চোখের আড়াল হলেই চিৎকার-চেঁচামেচি করত। ১৯৯১ সালের একদিন হঠাৎ বাসা থেকে নিখোঁজ হয় টুকিন। আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব আশা ছেড়ে দেন মা। ভেবেছিলেন, হয়তো মেয়েটি মারা গেছে। বড় সন্তান বেগমকে নিয়ে আগলে রাখেন। কিন্তু মেয়ে হারানোর ব্যথা তাঁকে ছাড়েনি। বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে পার করেন এতটি বছর।

এ অবস্থায় গত কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহ আগে ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় গৃহপরিচারিকা কাজ করা নিজ এলাকার আঙ্গুরা খাতুনের (৫০) মাধ্যমে চমকে ওঠা খবরটি আসে। তিনি জানতে পারেন, টুকিনের মতো একজনকে পাওয়া গেছে। সে ধানমণ্ডি এলাকার একটি বাসায় বাস করে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে মেয়েকে টুকি বলে ধারণা করা হচ্ছে তার মা-বাবা ও বাড়ির কথা সে জানে না। এলাকা থেকে সে হারিয়ে গিয়েছিল এটুকু শুধু বলতে পারে। এর মধ্যে ওই নারী (আঙ্গুরা) টুকিনকে মোবাইল ফোনে সাফিয়ার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। মা-মেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে একে অন্যকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার হারিয়ে যাওয়া টুকিন চলে আসে নান্দাইলে। দেখামাত্র মা মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন। তাঁদের আনন্দের কান্নায় প্রতিবেশীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

মা বলেন, ‘শিশু টুকিনের গালের পাশে কালো তিল ছিল। ডান পায়ের একটি আঙুল অন্য আঙুলের চেয়ে একটু অন্য রকম ছিল। বর্তমান সময়েও এই অবস্থা হুবহু পাওয়া গেছে। ’

টুকিন জানান, তাঁর কিছুই মনে নেই। শুধু মনে করতে পারেন, একটি গাড়ি থেকে নামানো হয়েছিল তাঁকে। এরপর এক লোক তাঁকে নিয়ে যায় নিজের বাসায়। ধানমণ্ডি এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে কুলসুম নামে বেড়ে ওঠে তিনি। ২০০৭ সালে তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়। পাঁচ বছরের এক কন্যাসন্তান আরফিনকে নিয়ে সুখেই আছেন তিনি। শিকড় খুঁজে পেয়ে মহাখুশি সেই দিনের টুকিন। তার চেয়েও বেশি খুশি মা।


মন্তব্য