kalerkantho


কাজীপুরের বড়ইতলার পাঁচ নারী নিখোঁজ

পুলিশের ধারণা, এরা জেএমবির আত্মঘাতী সদস্য

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের পাঁচ নারী নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই গ্রাম থেকে জেএমবির চার নারী সদস্যকে আটক করেছে।

পুলিশের ধারণা, আটক এড়াতে জেএমবির এই আত্মঘাতী নারী সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ওই গ্রাম থেকে জেএমবির আত্মঘাতী চার নারী সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আটকরা হলো গ্রামের আবু সাইদের স্ত্রী ফুলেরা খাতুন, মেয়ে সাকিনা খাতুন, সালমা খাতুন ও প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

তাদের আটকের পর থেকে ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন, মেয়ে আসিয়া খাতুন ও মরিয়ম খাতুন এবং আব্দুল মালেকের স্ত্রী জাজেদা খাতুন ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, আত্মগোপনকারীরা জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মীয় তালিমের নামে জঙ্গি মদদ জোগাত এবং জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করত। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ও মাসে কথিত তালিমে দূর-দূরান্তের বেশ কিছু নারী ও এলাকার কয়েকজন ছাড়া বাকি গ্রামবাসীদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ।

এই জঙ্গিরা পর্দার অজুহাতে প্রতিবেশীদের এড়িয়ে চলত।

গান্ধাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বড়ইতলা গ্রামের সাবেক সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, ডিবি পুলিশের হাতে আটক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের বাসায় প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শুক্রবার তালিম হতো। তালিম শেষে তারা খিচুড়ি রান্না করে খেত। বহিরাগত নারীরা আসত এ তালিমে। সঙ্গে এলাকার অল্প কয়েকজন নারীকে দেখা যেত। তবে এলাকার বাকি নারী ও পুরুষদের সেখানে যাওয়া ছিল নিষেধ। ইসমাইল বলেন, ‘ডিবি পুলিশের হাতে আটকের পর বুঝতে পারছি, তারা ধর্মের লেবাসে জঙ্গিবাদ করত। নিজ বাড়ির পাশে এমন ভয়ংকর জঙ্গির বসবাস ছিল জানতে পেরে গা শিউড়ে ওঠে। ’

নিখোঁজ রাবেয়া খাতুন সম্পর্কে তাঁর সাবেক স্বামী বেলাল হোসেন বলেন, ‘তার চলাফেরা ঠিক ছিল না। সব সময় আড়ালে থাকত। প্রতিবেশী কারো সঙ্গে মিশত না। আর মাসের মধ্যে চার-পাঁচ দিন তালিমের কথা বলে বাড়ির বাইরে থাকত। আটক রাজিয়ার সঙ্গে মেলামেশা ছিল। তারা এক সঙ্গে তালিম করত। আমি এসব বিষয়ে বারণ করাতে সে আমাকে তার মতো হয়ে চলতে বলত। বেহেশত পাওয়ার রাস্তায় আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলত। কোনোভাবে আমার বা পরিবারের কথা শোনাতে পারিনি। এ কারণে এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে সালিস বসানোর পর কোর্টের মাধ্যমে তাকে ডির্ভোস দিই। ’

আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন সম্পর্কে প্রতিবেশীরা জানান, এলাকার বাড়ির গঠন দেখে বোঝা যায়, তারা (চারপাশ ঘেরা) সবার থেকে কতটা আলাদা। তারা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আসত না। এমনকি কথা পর্যন্ত বলত না। এলাকার হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া আর কারো সঙ্গে তাদের ওঠাবসা ছিল না। রাজিয়াদের ধরার পর পর তাদের সঙ্গে চলাফেরা করা সবাই পালিয়েছে।

রাজিয়ার বৃদ্ধ শ্বশুর লোকমান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাড়িতে নানা ধরনের লোকজন আসত। তাদের চলাফেরা আমার ভালো লাগত না। আমি তাদের এসব কাজ থেকে সরে আসতে অনেক মানা করেছি। কিন্তু তারা শোনেনি। ’ রাজিয়ার শাশুড়ি জানান, ছেলের বউয়ের সঙ্গে তাদের মিলত না। বাড়ির অন্য একটি গেট দিয়ে মাঝেমধ্যে বোরকা পরা ৯-১০ জন নারী আসত। এরপর ঘর বন্ধ করে কী করত তা তাঁরা জানেন না।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘এ জেলায় আট নারীসহ ২১ জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আত্মগোপনে থাকা নারীদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ’


মন্তব্য