kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাজীপুরে শিশু তুরিন হত্যা

পুলিশের ভূমিকায় পরিবারে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের কাশিমপুরের লতিফপুরে মুক্তিপণের দাবিতে দুই বছরের শিশু তুরিন আফরোজ অপহরণ ও হত্যায় জড়িতদের ১৩ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি অপরাধীদের শনাক্তও করতে পারেনি।

শুধু সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করে দায় সেরেছে তারা। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন তুরিনের বাবা মামলার বাদী ফিরোজ আলম।

ফিরোজ আলম জানান, তাঁর দুই মেয়ের মধ্যে বড় তুলি আক্তারের বয়স পাঁচ এবং ছোট তুরিন আফরোজের দুই। গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর লতিফপুরের বাসার বাইরে খেলার সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হয় তুরিন। বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে রাতে উঠানে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল তুরিনকে অপহরণ করা হয়েছে। রাতে বাড়ির কাছের মসজিদের পাশের তালগাছের নিচে ২০ হাজার টাকা রাখা হলে তুরিনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ কথা কাউকে জানালে তুরিনকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে ২০ হাজার টাকা তালগাছের নিচে রাখা হয়।

ফিরোজ আরো জানান, পরদিন ভোরে গিয়ে টাকা ওখানেই পড়ে থাকতে দেখে তিনি ঘটনাটি থানায় জানান। ১০ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে বাড়ির কাছেই তুরিনের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে পরদিন জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। শুধু সন্দেহজনকভাবে জাহাঙ্গীর আলম নামের তাঁর বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে দায়িত্ব সেরেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশের আর কোনো তত্পরতা নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন জানান, মামলার পর সন্দেহজনকভাবে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাদীর বাড়িতে ভাড়া থেকে সে রিকশাভ্যান চালাত। গ্রেপ্তারের পর সে মুখ খোলেনি। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।


মন্তব্য