kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পদ্মায় ‘ডুবল’ স্কুল ভবন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শরীয়তপুরের জাজিরার কুণ্ডেরচরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে এবার বিলীন হলো একটি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন। গত মঙ্গলবার রাতে বিদ্যালয় ভবনটি ধসে পড়ে।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। এ অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এবারের মৌসুমে পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত আগস্টের শুরু থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ও বিলাসপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা কলমিরচর চোকদারকান্দি, মমিন খালাসিকান্দি, হাজী মকবুল খালাসিকান্দি, রিয়াজ উদ্দিন মাদবরকান্দি ও ইয়াকুব মাদবরকান্দি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত দেড় মাসে কুণ্ডেরচর ও বিলাসপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের পাঁচটি মসজিদ, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দেড় হাজার পরিবার পদ্মার ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়ে।

এদিকে কুণ্ডেরচর ইসমাইল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ভবনটি ভেঙে পড়ায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে একই এলাকার কুণ্ডেরচর হাসেম আলী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের জামে মসজিদটি।

ভাঙন আতঙ্কে দুটি বিদ্যালয়ের আসবাব অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যে যেখানে পারছে চলে গেছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোর কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী বার্ষিক, জেএসসি ও সমাপনী পরীক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসমাইল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নুরে আলম বলে, ‘আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীতে ভাইঙা গেছে। আমাগো আর কিছুই নাই। আমাদের গ্রামের একমাত্র বিদ্যালয়টিও নদীতে চলে গেল। ’

কুণ্ডেরচর হাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলী আকবর বলেন, ‘গত ৩১ বছরে বিদ্যালয়টি ছয়বার ভেঙেছে। সব শেষে এলাকার লোকজন জমি কিনে বিদ্যালয়কে দিয়েছে। পাশেই একটি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ার পর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। এখন এ বিদ্যালয় দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আমাদের আর দুঃখের সীমা থাকবে না। ছেলেমেয়েদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে আমাদের এ বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে গেছে। ’

কুণ্ডেরচর ইসমাইল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার দত্ত বলেন, ‘এ বছর আমাদের বিদ্যালয়ে ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে বিদ্যালয় ভবনটি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেল। জেএসসি ও সমাপনী পরিক্ষা সামনে রেখে পাশের একটি গ্রামে জমি লিজ নিয়ে টিনের ঘর তৈরি করে পাঠদান অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। ’

শরীয়তপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তারেক হাসান বলেন, ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে কুণ্ডেরচর থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য