kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জিয়ানগর

সেতু সংস্কারে নেই উদ্যোগ, ভোগান্তি

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেতু সংস্কারে নেই উদ্যোগ, ভোগান্তি

পিরোজপুরের জিয়ানগরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের ভেঙে পড়া লোহার ব্রিজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

জিয়ানগরের পাড়েরহাট বন্দর ও বাদুরা মৎস্যবন্দরের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম সংযোগ সেতুটি সংস্কারের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ধসে পড়লেও সেটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে চরম দুর্বিপাকে পড়েছেন ওই সেতু দিয়ে চলাচল করা প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মাছ ধরার ট্রলারের সামান্য ধাক্কায় সেতুটি ধসে পড়ে।

এলাকাবাসী জানায়, গত রোজার সময় সেতুটি সংস্কার করে বুশরা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দায়সারাভাবে সেতুটি সংস্কার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সংস্কার কাজ করায় এটি ধসে পড়েছে বলেও মন্তব্য করে তারা।

তবে বুশরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লায়লা ইরাদ বলেন, ‘কে কোথায় কী কাজ করে এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ব্রিজটির কাজের মান সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। ’

পিরোজপুর সদর এলজিইডির প্রকৌশলী নূর-উস-শামস্ জানান, সেতুটি দুর্বল থাকায় পানির স্রোত ও কচুরিপনার চাপ এবং ট্রলারের ধাক্কায় সেটি ধসে গেছে। তিনি আরো জানান, সেতুটি অনেক দুর্বল ছিল। সংস্কার না করে পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন ছিল।

জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাদুড়া মৎস্যবন্দরে অবস্থিত ব্রিজটির একপাশে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বরফ কল। অন্যপাশে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। যেখান থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মাছ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেতুটি দিয়েই চলাচল করে। প্রায় ২০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিনই সেতুটি ব্যবহার করেন। কিন্তু গত ১৪ সেপ্টেম্বর সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আশিষ কুমার মজুমদার বলেন, সেতুটি ভেঙে পড়ায় ছাত্রছাত্রীদের নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। স্রোত বেশি থাকার সময় এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অচিরেই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে আসতে পারবে না।

পাড়েরহাট বন্দরের ব্যবসায়ী আবু সাফায়েত বলেন, সেতু ধসে পড়ার পর ছাত্রছাত্রীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে তারা প্রাণে রক্ষা পেলেও তাদের বই-খাতা উদ্ধার করা যায়নি। এ ছাড়া গত শনিবার সন্ধ্যায় ফের ওই সেতুটি ধসে শিশু ও নারীসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। অথচ এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল হাসান বলেন, ‘আপাতত লোকজন পারাপারের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। ওখানে পাকা ব্রিজের জন্য ডিজাইন হয়ে গেছে। এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা। ’


মন্তব্য