kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাবনায় যুবদল নেতা লিটন হত্যা

খুনিদের চোখরাঙানিতে বৈশাখী ভুলছে স্কুলপথ

পাবনা প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খুনিদের চোখরাঙানিতে বৈশাখী ভুলছে স্কুলপথ

লিটনের মেয়ে বৈশাখী

চোখের সামনে বাবাকে হত্যার দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করছে বৈশাখীকে। শুধু তাই নয়, মামলা তুলে নিতে আসামিদের হুমকির মুখে বৈশাখীর স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

শিকেয় উঠেছে তার পড়াশোনা। নিরাপত্তাহীনতায় বৈশাখীর মা তাকে নিয়ে নিজ গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্য গ্রামে।

এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম লিটনকে তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে বৈশাখীর সামনেই কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা করেন লিটনের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা। এতে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে মামলাটি থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে লিটনের স্ত্রী ও মামলার বাদী রেবেকা সুলতানা বলেন, “আসামিরা আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে বাদী এবং সাক্ষীদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসামিরা বলে, ‘একটি হত্যার যে শাস্তি, ১০টি হত্যারও একই শাস্তি। বাঁচতে চাইলে মামলা তুলে নাও, নইলে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। ’ আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিরাপত্তা না থাকায় ছয় মাস ধরে আমার মেয়ে বৈশাখীর লেখাপড়া বন্ধ। ”

বৈশাখীর পরিবার জানায়, সে বনওয়ারীনগর সিবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বৈশাখী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী। ২০১৫ সালের পিইসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে সে ফরিদপুর উপজেলায় প্রথম হয়েছে। ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে লোকসংগীত, পল্লীগীতি ও দেশাত্ববোধক গানে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছে সে। অথচ তার বাবাকে যারা হত্যা করল তারাই আবার মেয়েটিকে পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে। আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে মেধাবী ছাত্রীটির পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে।

নিহত যুবদল নেতার চাচা সোহেল রানা রেহান জানান, লিটন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলার আসামি ও তাদের সহচররা লিটনের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে। বৈশাখীর বাবা জীবিত থাকতে সে বাবার সঙ্গে হোন্ডায় চড়ে স্কুলে যেত। লিটন মারা যাওয়ার পর থেকে বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের স্কুলে সে অন্যদের সঙ্গে ভ্যানে চলাচল করে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সন্ত্রাসীরা তাকেও হুমকি দেয়। এ অবস্থায় প্রায় এক মাস আগে লিটনের পরিবারের সদস্যরা সাভার গ্রাম থেকে বনওয়ারীনগরে চলে গেছে। নিরাত্তাহীনতার কারণে বৈশাখীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন কারো সঙ্গে বৈশাখীকে স্কুলে পাঠিয়ে অ্যাটেনডেন্সটা দিয়ে আনা হয়।

এদিকে হত্যা মামলার আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে বৈশাখীর মা রেবেকা সুলতানা ফরিদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

ফরিদপুর থানার ওসি মো. শরিফুল আলম জানান, জিডিতে মামলার বাদী তাঁর ও মেয়ের এবং সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা ও আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানান, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুনরায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় পাবনার বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালত বরাবর থানা থেকে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

 


মন্তব্য