kalerkantho


বগুড়া কাস্টমসে ১৫ দিন ধরে আটকা

ঘুষ ছাড়াই সেই ট্রাকের ‘মুক্তি’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঘুষ ছাড়াই সেই ট্রাকের ‘মুক্তি’

অবশেষে ঘুষ ছাড়াই মুক্ত হলো সিমেন্টবোঝাই সেই ট্রাক। ‘ট্যাক্স ১৫ হাজার, ঘুষ দাবি দেড় লাখ’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পরই শুধু জরিমানা করে ট্রাকটি ছাড়া হলো।

ঘুষ না দেওয়ায় ১৫ দিন ওই ট্রাকটি আটকে রাখা হয়েছিল বগুড়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের ক্যাম্পাসে।

গত সোমবার এ নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি সর্বমহলে আলোচনায় আসে। কাস্টমস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ঘুষ ছাড়াই ট্রাকটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বগুড়া ক্যাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

হোলসিম সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের উত্তরাঞ্চলীয় কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ট্রাকটি ছাড়া হলেও তারা কিছু কিছু খাত উল্লেখ করে সর্বোচ্চ পরিমাণ জরিমানা আদায় করেছে। এই জরিমানা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪০০ বস্তা সিমেন্টের মূসক বাবদ ২১ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থদণ্ড বাবদ ২১ হাজার ৯০০ টাকা। আরোপিত বিমোচন বাবদ ১০ হাজার ৯৫০ টাকা।

বগুড়া কাস্টমসের সুপারিনটেনডেন্ট হুমায়ুন কবির এই জরিমানা নির্ধারণ করেন। এ ব্যাপারে পরে বগুড়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের ডেপুটি কমিশনার নুর উদ্দিন মিলনের কাছে আপিল করা হলেও তিনি জরিমানা কমানোর কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো এই বর্ধিত টাকাই পরিশোধ করার পরামর্শ দেন। আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ঘুষের টাকা না পেয়ে প্রতিহিংসামূলকভাবে এই বর্ধিত সর্বোচ্চ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অথচ নিয়মমতো দ্বিতীয় দফা মূসক দিলেও ৪০০ বস্তায় ১৫ হাজার টাকার বেশি লাগার কথা নয়।

উল্লেখ্য, হোলসিম সিমেন্ট কারখানা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেঘনা ঘাট থেকে নওগাঁয় পাঠানোর জন্য তিন হাজার ৯০০ বস্তা সিমেন্টের মূসক চালান পরিশোধ করা হয় গত ২৪ আগস্ট। এরপর মেঘনা ঘাট হয়ে একটি ট্রলারে করে সিমেন্টের বস্তাগুলো বহনের সুবিধার্থে নগরবাড়ী ঘাটে নিয়ে আসা হয় গত ৩০ আগস্ট। গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি ট্রাকে করে প্রথম চালানের ৪০০ বস্তা সিমেন্ট নওগাঁয় পাঠানো হয়। পথের মধ্যে বগুড়ার বনানীতে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ট্রাকটি আটক করেন। এরপর হোলসিম কর্তৃপক্ষ বারবার এই বিভাগে যোগাযোগ করে দ্বিতীয় দফা মূসক কিংবা মামলা করার অনুরোধ জানালেও তা করা হয়নি। উল্টো দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন।

বগুড়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, যথাযথ নিয়মেই জরিমানা করা হয়েছে। এখানে বাড়তি টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।


মন্তব্য