kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পায়রা বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ

‘ন্যায্য দাম ছাড়া জমি দেব না’

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘ন্যায্য দাম ছাড়া জমি দেব না’

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা কৃষকের জমির দাম পাঁচ গুণ বাড়ানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে জনসভা করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার লালুয়া, বালিয়াতলী, ধুলাসার, ধানখালী ও চাম্পাপুর ইউনিয়নের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

কলাপাড়া পৌরসভা চত্বরে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ। জনসভা শেষে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সাদেকুর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

জনসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাকিবুল আহসান বলেন, ‘লালুয়া, বালিয়াতলী, ধুলাসার, ধানখালী ও চাম্পাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থক অধ্যুষিত। ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আমলারা আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে সুবিধা নিতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ এলাকার মানুষ ভালোবাসে। সেই ভালোবাসার প্রতিদানে প্রধানমন্ত্রী কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নৌঘাঁটি স্থাপন করছেন এ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা এখনো জমির মূল্য পায়নি। তাদের উচ্ছেদ করে সেখানে গড়ে উঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কলাপাড়ায় উন্নয়নকাজ হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকার মানুষের কাছে নষ্ট করতে আমলারা উঠেপড়ে লেগেছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমলাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য তিন থেকে পাঁচ গুণ উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি আমলারা বাস্তবায়ন করলে জনগণের এই আন্দোলন হতো না। টাকা ছাড়া উচ্ছেদ নয়। টাকা দেবেন না, জমি দেব না। ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম বক্তব্যে বলেন, ‘প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অধিগ্রহণকৃত জমির দাম পাঁচ গুণ করে প্রতি শতাংশে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অথচ জেলা প্রশাসন পুনরায় জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে নোটিশ দিয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নোটিশ গ্রহণ করব না, জমিও দেওয়া হবে না। ’ তিনি বলেন, ‘পায়রা বন্দর, নৌঘাঁটি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জামায়াত ও বিএনপির লোক থাকায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ’

উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে প্রশাসন কাজ করছে। কলাপাড়ার জনগণ উন্নয়নের পক্ষে। আমরা জমির ন্যায্য মূল্য চাই। প্রতিটি পরিবারের কমপক্ষে একজনের চাকরি চাই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, পোর্ট ও বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই—সবই স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে। ’

বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের পাঁচ উনিয়নের এই আন্দোলন সরকারবিরোধী নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আন্দোলন। ’ 

জনসভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা ড. শহিদুল ইসলাম, আ. জলিল মাস্টার।  

পাঁচ ইউনিয়নের জনগণের দাবিগুলো হলো—পায়রা বন্দর সন্নিহিত এলাকায় অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য বর্তমান বাজার দরের চেয়ে পাঁচ গুণ বাড়ানো; কলাপাড়ায় আর কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করা; বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করা; জনগণের জমির দাম নেওয়ার সুবিধার জন্য এলএ অফিস কলাপাড়ায় স্থানান্তর; পায়রা বন্দর ও শেরেবাংলা নৌঘাঁটির জন্য অধিগ্রহণ করা জমির পরিমাণ জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ; অধিগ্রহণ করা জমির পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে পায়রা বন্দর বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে চাকরি নিশ্চিত করা ও জমির সমস্যা সমাধানে কলাপাড়ায় একটি বিশেষ আদালত স্থাপন।


মন্তব্য