kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কালিয়াকৈরে গ্যাসের অবৈধ পুনঃসংযোগ

মাইকিং করে দায় শেষ তিতাসের

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পঞ্চাশ হাজার টাকায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিয়েছেন। ঈদের আগে তিতাসের সতর্কীকরণ মাইকিং শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন।

এখন দুই হাজার টাকায় সেই সংযোগ পুনরায় চালু করে দিচ্ছেন দালালরা। চলতি সপ্তাহে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইনকিনি, হরতকিতলা, রসুলপুর, বিশাইদ ও ভাতারিয়া গ্রামে প্রায় শতাধিক অবৈধ লাইন পুনঃসংযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ-ছয় বছর আগে এই উপজেলায় এক শ্রেণির দালাল প্রতি বাড়িতে কয়েক হাজার তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেন। এতে দালালরা বাড়ির মালিকের কাছ থেকে রাইজারপ্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন। ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের মালামাল। অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয় হরতকিতলা, ডাইনকিনি, পূর্ব চান্দরা, মাটিকাটা, সিনাবহ, সুরিচালা, চন্দ্রা, বাড়াইপাড়া, ভান্নরা, মৌচাক, তেলিরচালা, হাবিবপুর, রসুলপুর, সূত্রাপুর, বোর্ডঘর, সফিপুর, আন্দারমানিক, বোর্ডমিল, রতনপুর, বড়ইছুটি, কালামপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়। অবৈধ সংযোগের ফলে বৈধ গ্রাহকদের বাসাবাড়িতে দেখা দেয় গ্যাস সংকট। কয়েক বছর এভাবে চলার পর গত কোরবানির ঈদের ১৫ দিন আগে তিতাস কর্তৃপক্ষ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এলাকায় মাইকিং করে। মাইকিংয়ে বলা হয়, যারা অবৈধ সংযোগ নিয়েছেন তারা স্বেচ্ছায় নিজ খরচে ওই সব সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করবেন। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলজরিমানা করা হবে। এ ছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে জাতীয় পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তির পর সব অবৈধ গ্রাহক সংযোগ বা গ্যাসের রাইজার খুলে ফেলে। কিন্তু মাইকিং করার পর তিতাস কর্তৃপক্ষ আর কোনো খোঁজখবর রাখেনি। দালালচক্র টাকার বিনিময়ে পুনরায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে।

হরতকিতলা ও ডাইনকিনি গ্রামে গিয়ে জানা যায়, পুরনো দালালরা সংযোগ দিতে অবৈধ গ্রাহকদের কাছ থেকে রাইজারপ্রতি দুই হাজার টাকা করে নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ নেওয়া এক গ্রাহক বলেন, ‘গত বছর রোজার ঈদের পর তিতাস কর্মকর্তারা এসে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে যায়। পরে দালালচক্রের মাধ্যমে রাইজারপ্রতি দুই হাজার টাকা করে দিয়ে লাইন সংযোগ দিই। এরপর সরকারি নির্দেশনা অনুসারে কোরবানির ঈদের আগে মাইকিং শুনে স্বেচ্ছায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। আবার দুই হাজার টাকা দিয়ে লাইনের পুনঃসংযোগ দিয়েছি। ’

আরেক গ্রাহক বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানতে পারি, অবৈধ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তাই স্বেচ্ছায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে পুনরায় সংযোগ নিই। ’

আন্দার মানিক পূর্বপাড়ার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘তিতাসের মাইকিং শোনার পর আমার বাড়ির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি। কিন্তু এখন শুনতেছি, পুনরায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদি পুনরায় সংযোগ দেয়, তাহলে তিতাস কর্তৃপক্ষ কী করে?’

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের চন্দ্রা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সুরুজ আলম বলেন, ‘বেশ কিছু এলাকায় পুনরায় সংযোগ দেওয়ার কথা শুনেছি। ওই সব এলাকায় লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া আমাদের মাইকিংই শেষ না। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ ছাড়া যেসব দালাল পুনরায় সংযোগ দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের মাইকিংয়ে অনেকে সাড়া দিয়েছে। যারা এখনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি, ওই সব এলাকায় অভিযান চালানো হবে। ’


মন্তব্য